অনুষ্ঠানস্থল থেকে হোটেল কক্ষ, কী ঘটেছিল সেদিন?

শেষ সফরেও কেকের সঙ্গেই ছিলেন তিনি। সোশ্য়াল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও নজরুল মঞ্চের অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করে কার্যত সেই দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় কেকে-কে। এরপর গাড়িতে উঠে শিল্পী ম্যানেজারকে জানিয়েছিলেন, ‘আমার ঠাণ্ডা লাগছে, এসি বন্ধ করো। ‘ হাতে-পায়ে টান ধরার কথাও বলেন কেকে।

কেকের মৃত্যুতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এদিন হিতেশ ভাটকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠান চলাকালীন কেকের কোনো অসুবিধা হয়নি। হোটেলে ফিরে অসুস্থ হন গায়ক, এমনটাই সংবাদমাধ্যমকে জানালেন কেকের ম্যানেজার হিতেশ ভাট।

কেকের মৃত্যু নিয়ে পুলিশকে বয়ান দেওয়ার পর গণমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন তিনি।

হিতেশ ভাটের পরবর্তী কথায় উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নজরুল মঞ্চ থেকে প্রায় ২০ মিনিট দূরে অবস্থিত ধর্মতলার ওয়েবয় গ্র্যান্ড হোটেলে পৌঁছার পর কী হয়েছিল? রীতেশ ভাটের কথায়, ওয়েবয় গ্র্যান্ডের লবিতে ভক্তরা তাঁকে ধরে, ছবি তুলতে চায়।  কেকে জবাবে বলেন, শরীরটা ভালো লাগছে না। তিনি আগামীকাল (আজ) ছবি তোলার প্রতিজ্ঞা করেন। এরপর হোটেলরুমে প্রবেশ করেন তাঁরা।

হোটলেরুমের সোফায় বসে বমি করেন শিল্পী, তারপর মুখ থুবড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন… সেই সময়ই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন কেকে। হিতেশ জানান, শরীর ভারী হয়ে গিয়েছিল। তিনি পারছিলেন না তাঁকে তুলতে। দ্রুত হোটেলকর্মীদের সাহায্য চান। তাঁরা ছুটে এসে দ্রুত শিল্পীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। এরপর ইকবালপুরের সিএমআরআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হিন্দুস্তান টাইম বাংলা বলেছে, কেকের ঠোঁটে ও কপালে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। সেটা নিয়েও কথা হচ্ছে। যদিও সেই আঘাত গুরুতর নয়, বলেই নাম গোপন রাখার শর্তে জানিয়েছেন কলকাতা পুলিশের এক কর্মকর্তা। মঙ্গলবার গায়কের মৃত্যুর পর একটি মহলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছিল, কেকের কপালে এবং ঠোঁটে আঘাত লেগেছে।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কেকের মুখে কিছুটা কেটে যাওয়ার দাগ আছে। যা সম্ভবত কেকে পড়ে যাওয়ার ফলে হয়েছে। তাঁর কপালে এবং ঠোঁটে আঘাত আছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, সে রকম কিছু হয়নি। রক্তপাতও হয়নি। ‘

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here