অমিতাভ বচ্চনের আবিষ্কারক একজন হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায় (ভিডিও)

অমিতাভ বচ্চনের আবিষ্কারক একজন হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়

ভারতীয় উপমহাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্রতী ছিলেন যেসব বাঙালীজাত নির্মাতা, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়। প্রকৃত অর্থে ভারতীয় সিনেমায় ‘স্টার মেকার’ বলে যদি কেউ থেকে থাকেন, তবে তিনিই সেই স্থানটিতে অবস্থান করছেন। নির্মাণ করেছেন যে ক’টি চলচ্চিত্র, সবই সব ধরনের দর্শককেই বিনোদিত করেছিল। চলচ্চিত্র জগতে প্রতিভাধর অভিনেতা-অভিনেত্রীদের তিনিই প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন। প্রতিভাবানদের চিনে নেয়ার মতো জহুরি ছিলেন তিনি।

আপাদমস্তক বাঙালী হলেও বাংলা ভাষায় কোন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেননি। চিত্র নির্মাণে ছিলেন সব্যসাচী। ক্যামেরা, সম্পাদনা, কাহিনী সংলাপ, গীত পরিচালনা, প্রযোজনা সবই করেছেন এক জীবনে। ৮৪ বছরের জীবনে নিবেদিত ছিলেন রুচি ও শিক্ষাসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণে। সর্বকালের সেরা অভিনেতা ধর্মেন্দ্র, রাজেশ খান্না, অমিতাভ বচ্চন, অমল পালেকর ও জয়াভাদুড়ির মতো প্রতিভাবানদের তিনিই চলচ্চিত্র জগতে এনে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন।
বাল্যকাল থেকে সিনেমাপাগল হৃষিকেশ জন্মেছিলেন আজ থেকে ৯৯ বছর আগে ১৯২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কলকাতায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৪ সালে বিএ পাস করেন। এরপর স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। বিজ্ঞান ও অঙ্ক বিষয়ের শিক্ষকতায় তার মন ভরছিল না। সৃজনশীলতা তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। আর সেই পথে যাওয়ার জন্য সুযোগ খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন। পেয়েও যান একদিন।
কলকাতার নিউথিয়েটার্স স্টুডিওতে যোগ দেন ক্যামেরাম্যান হিসেবে। আর প্রবেশ করলেন চলচ্চিত্র নামক স্বপ্নের জগতে। ক্যামেরার কাজ করতে করতে সংযোগ ও সম্পর্ক গভীরতর হয় খ্যাতিমান চিত্র সম্পাদক সুবোধ মিত্রর। তাঁর কাছ থেকেই চলচ্চিত্র সম্পাদনার কাজ শিখতে শুরু করেন। এরপরে তিনি বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক বিমল রায়ের বিখ্যাত দুটি ছবি দো-বিঘা জামিন ও দেবদাস-এর সম্পাদনার কাজ তিনিই করেন। এভাবেই চলচ্চিত্র জগতে তাঁর পায়ের তলে মাটি ক্রমশ শক্তপোক্ত হতে থাকে। চলচ্চিত্র জগতের সব দুয়ার ঝটপট তাঁর জন্য খুলে যেতে থাকে।
হৃষিকেশ প্রথম একক উদ্যোগে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন ১৯৫৭ সালে যখন বয়স তার ৩৫ বছর। ‘মুসাফির’ নামক চিত্রটি তাঁকে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে অবস্থান সুদৃঢ় করে। ১৯৬০ সালে তিনি নির্মাণ করেন ‘অনুরাধা’। কাহিনীর ভিন্নতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। এই ছবিটির জন্য হৃষিকেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে। সম্মান শুধু স্বদেশেই নয় আন্তর্জাতিকভাবেও পেয়েছেন। ‘অনুরাধা’ ছবিটি ১৯৬০ সালে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব বিশেষ ক্যাটাগরির চলচ্চিত্র হিসেবে সম্মান অর্জন করে।
হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায় পরিচালনার কর্মজীবনে সত্যকাম, চুপকে চুপকে, অনুপমা, আনন্দ, অভিমান, গুড্ডি, গোলমাল, আশীর্বাদ, বাবুর্চি, নেমক হারাম প্রভৃতি অসংখ্য ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।
তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সনদায়ন কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় চলচ্চিত্র উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারত সরকার তাকে চলচ্চিত্র বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এবং ২০০১ সালে পদ্মবিভূষণ প্রদাণ করেন। তিনি এনটিআর জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। ৮৪ বছর বয়সে ২০০৬ সালের ২৭ আগস্ট শেষ নিংশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here