আজ সত্যজিৎ রায়ের প্রয়াণ দিবস

0
201

১৯৯২ সালের  এই দিনে বাংলা চলচ্চিত্রের গুণী নির্মাতা সত্যজিৎ রায়  মৃত্যুবরণ করেন।

সাহিত্যিক, নির্মাতা, শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এরকম বহু পরিচয়ে যাকে ডাকা যায়  তিনি হলেন সত্যজিৎ রায়।  তাঁর ডাকনাম ছিল মানিক । ১৯২১ সালের ২ মে প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায় ও সুপ্রভা দেবীর কোল আলো করে  উত্তর কলকাতায় জন্ম নেন সত্যজিৎ । শুধু বাংলা ভাষাভাষি অঞ্চলের নয়, উপমহাদেশের এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব তিনি। তবে নির্মাতা হিসেবেই তিনি বিশ্বে জনশ্রুত, জনপ্রিয়।

১৯৫৫ সালে ‘পথের পাঁচালী’ সিনেমা নির্মাণের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে সত্যজিৎ রায়ের যাত্রা শুরু। ‘পথের পাঁচালী’ মোট ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে, যার মধ্যে অন্যতম ছিল কান চলচ্চিত্র উৎসবে পাওয়া ‘বেস্ট হিউম্যান ডকুমেন্ট’ পুরস্কারটি । তাঁর পরের দুটি ছবি ‘অপরাজিত’, ‘অপুর সংসার’ আর ‘পথের পাঁচালী’—এ তিনটি চলচ্চিত্র একত্রে অপু ট্রিলজি হিসেবেই পরিচিত। ‘অপরাজিত’  ছবির সাফল্য সত্যজিৎ রায়কে আন্তর্জাতিক মহলে আরও পরিচিত করে তোলে । তারপর একের পর এক চলচ্চিত্র তিনি আমাদের উপহার দিয়েছেন ‘অপরাজিত’, ‘অপুর সংসার’, ‘পরশপাথর’, ‘জলসাঘর’, ‘তিন কন্যা’, ‘দেবী’, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’, ‘ঘরে-বাইরে’, ‘চারুলতা’, ‘চিড়িয়াখানা’, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, ‘নায়ক’, ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’, ‘সোনার কেল্লা’, ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’, হীরক রাজার দেশে, ‘গণশত্রু’, ‘শাখা-প্রশাখা’ ও সর্বশেষ বানানো সত্যজিতের  ‘আগন্তুক’  প্রভৃতি ২৭টি কাহিনিচিত্র ।

অসাধারণ সব চলচ্চিত্র নির্মাণ যেমন করেছেন, তার জন্যে হয়েছেন পুরস্কৃতও। তাঁর পুরস্কারের ঝুলি দেখে মনে হবে যেনো জাতীয় পুরস্কারের চেয়ে তিনি আন্তর্জাতিকভাবেই বেশী স্বীকৃত! ১৯৯২ সালে মৃত্যুর কিছুদিন আগে একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস (অস্কার) তাঁকে বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার আজীবন সম্মানস্বরূপ একাডেমি পুরস্কার (অস্কার) প্রদান করেন । অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছিলেন তিনি। যা তার আগে একমাত্র মহান নির্মাতা ও অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনই পেয়ে ছিলেন। ফ্রান্সের সরকার ১৯৮৭ সালে তাঁকে সে দেশের বিশেষ সম্মনসূচক পুরস্কার ‘লেজিওঁ দনরে’ প্রদান করেন। ১৯৮৫ সালে অর্জন করেন ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র পুরস্কার দাদাসাহেব ফালকে। মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বেই ভারত সরকার তাঁকে প্রদান করেন দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্ন। সেই বছরেই মৃত্যুর পরে তাঁকে মরণোত্তর আকিরা কুরোসাওয়া পুরস্কার প্রদান করা হয়।

১৯৯২ সালে হৃদযন্ত্রের জটিলতা নিয়ে সত্যজিৎ হাসপাতালে ভর্তি হন। তারপর সেখান থেকে আর ফেরা হয়নি তাঁর। ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল তিনি পরলোক গমন করেন ।

বিনোদন প্রতিদিন পরিবার পক্ষ থেকে এই মহান নির্মাতাকে স্মরণ করছি ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here