আলমগীরের মৃত্যু গুজব ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ রুনা লায়লা

0
166

শারীরিক অবস্থার যখন উন্নতি হচ্ছিল, তখন কিংবদন্তি অভিনেতা আলমগীরের মৃত্যুর মিথ্যা খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেটা পৌঁছে যায় চিকিৎসাধীন অভিনেতার কানেও। এতে ভীষণ মর্মাহত হন তিনি, তাঁর স্ত্রী কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা হন ক্ষুব্ধ। এসব যারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

গতকাল সন্ধ্যায় কে বা কারা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয় তাঁর মৃত্যুর মিথ্যা খবর। মুহূর্তেই সেটি ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে একের পর এক আসতে থাকে ফোনকল। এতে চিকিৎসাধীন আলমগীর মানসিকভাবে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েন।

আলমগীরের মৃত্যুর মিথ্যা খবর ছড়িয়েছে নামসর্বস্ব কিছু অনলাইন পোর্টাল। আর যারা ফেসবুকে ছড়িয়েছে, সেসবের স্ক্রিনশট সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

নায়ক আলমগীরের করোনা পজিটিভ

আলমগীরের ভাষ্য, ‘আমি ভালো আছি। সবার বোঝা উচিত, একজন মানুষ যখন হাসপাতালে ভর্তি হন, তখন তিনি ও তাঁর পরিবারের ওপর দিয়ে যে মানসিক ঝড় বয়ে যায়, তা শুধু ভুক্তভোগীরাই উপলব্ধি করতে পারেন। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, অথচ তারা হাসপাতালে থাকা সুস্থ মানুষকে নিয়ে যে প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, তা কোনো অবস্থায় সভ্য মানুষের কাজ হতে পারে না। এমন ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষাও নেই আমার।’

রুনা লায়লা বলেন, ‘এ কেমন মানসিকতা। এটা তো অনেক বড় ধরনের অপরাধ। যারা এ গুজব ছড়িয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এদের খুঁজে বের করবেন এবং শাস্তির ব্যবস্থা করবেন আশা করি। কারণ, গুণীজনদের নিয়ে এমন ঘটনা আগেও একাধিকবার ঘটেছে।’ রুনা লায়লা আরও বলেন, ‘একটি কুচক্রীমহল যেভাবে কিছু ভিত্তিহীন ও মিথ্যা সংবাদ প্রচার করছে, তাতে আলমগীর সাহেব এবং আমাদের পরিবার হতবাক হয়ে গেছে। ফেসবুক ও ইউটিউবে নিজেদের দিকে নজর ফেরাতে ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এ রকম দূষিত খবর ছড়িয়ে দিতে হবে কেন, তা আমাদের মাথায় আসে না। অসুস্থ ও বিকৃত মনের ব্যক্তিরাই নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থে এত নিচে নেমে আসবে? আমরা ফেসবুক এবং ইউটিউব চ্যানেলগুলোতে সব আপডেটের একটি নোট তৈরি করেছি এবং শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেব।’

এমন গুজব নতুন নয়। এর আগেও রাজ্জাক, এ টি এম শামসুজ্জামান, প্রবীর মিত্র, এন্ড্রু কিশোর, এর মতো শিল্পীদেরও ক্ষেত্রেও এ রকম হয়েছে। তাঁদের মৃত্যুর আগে একাধিকবার তাঁদের মৃত্যুর মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চলচ্চিত্রের আরেক বরেণ্য অভিনয়শিল্পী ও সাংসদ আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এমন খবরে ভীষণভাবে মুষড়ে পড়ে তাঁর পরিবার। সব থেকে বেশি মৃত্যুর খবর ছড়িয়েছিল বরেণ্য অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের ক্ষেত্রে। এ প্রসঙ্গে এটিএম শামসুজ্জামানের ঘণিষ্ট নির্মাতা শিমুল সরকার বিনোদন প্রতিদিনকে জানান – এটিএম ভাই এর অন্তত ৫ বার মৃত্যুর খবর সত্য নাকি মিথ্যা এমন অজস্র ফোন সাংবাদিকদের কাছে থেকে পেয়ে, খবরটি ভুয়া সেটি তাদেরকে নিশ্চিত করতে হয়েছে আমাকে। বেশিরভাগ বিনোদন সাংবাদিকই যেহেতু আমার ঘণিষ্ট সেহেতু তারা জানতেন এটিএম ভাই আমার খুবই ঘণিষ্ট একজন অভিনেতা যার পরিবারের সাথে সম্পর্ক রয়েছে আমার। একটা স্বনামধন্য টেলিভিশন চ্যানেল পর্যন্ত এমন ভুয়া খবরে প্রলুব্ধ হয়ে ব্রেকিং নিউজ দিয়েছিল। তাদেরকেও আমি নিশ্চিত করেছিলাম খবরটি মিথ্যা। অবশেষে এটিএম ভাই তো চলেই গেলেন আমাদের ছেড়ে।

এদিকে হাসপাতালে ভালোই আছেন আলমগীর।

২০ এপ্রিল করোনা পজিটিভ হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর আগে ১৭ এপ্রিল রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে সপরিবারে করোনার দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণ করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here