আলালের ঘরের দুলাল – প্যারীচাঁদ মিত্র (ভিডিও)

আলালের ঘরের দুলাল - প্যারীচাঁদ মিত্র (ভিডিও)

প্যারীচাঁদ মিত্র বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক; তাঁর ছদ্মনাম টেকচাঁদ ঠাকুর।

প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালের ২২শে জুলাই কলকাতায় এক বণিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম রামনারায়ণ মিত্র। তিনি কাগজ ও হুন্ডি ব্যবসায়ী ছিলেন। প্যারীচাঁদ মিত্র বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। প্যারীচাঁদ মিত্রের ভ্রাতা কিশোরীচাঁদ মিত্র ৷ তাঁদের আদিনিবাস অধুনা পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার পাণিসেহালা গ্রাম ৷

প্যারীচাঁদ মিত্র শৈশবে একজন গুরুমহাশয়ের নিকট বাংলা, পরে একজন মুন্সির নিকট ফারসি শিখেন। ইংরেজি শিক্ষা লাভের জন্য হিন্দু কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলেন। ঐ সময় ডিরোজিও নামে একজন বিখ্যাত অধ্যাপক ছিলেন হিন্দু কলেজে। তিনি তার শিষ্য ও ভাবশিষ্য ছিলেন।

তিনি বাংলার নবজাগরণের অন্যতম নেতা ছিলেন। তিনি কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান ছিলেন। তিনি ফার্সি, বাংলা ও ইংরেজি ভালো জানতেন। বিশেষ করে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় বহু গ্রন্থ রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তিনি মহিলাদের জন্য একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন। তার সহযোগী ছিলো রাধানাথ শিকদার। তিনি এছাড়াও জনকল্যাণ মূলক কাজও করতেন।

প্যারীচাঁদ মিত্র কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের সদস্য ছিলেন। তিনি পশু-ক্লেশ নিবারণী সভারও সদস্য ছিলেন। বেথুন সোসাইটি ও ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটির অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন প্যারীচাঁদ মিত্র। জ্ঞানান্বেষণ সভার সদস্য হন তিনি ১৮৩৮ সালে। তার ইংরেজি ভাষায় রচিত লেখাসমূহ ছাপা হত ইংলিশম্যান, ইন্ডিয়ান ফিল্ড, ক্যালকাটা রিভিউ, হিন্দু প্যাট্রিয়ট, ফ্রেন্ড অফ ইন্ডিয়া প্রভৃতি পত্রিকায়। তিনি পুলিশি অত্যাচারিতার বিরুদ্ধে লড়েছিলেন এবং সফলকামও হয়েছিলেন। তিনি স্ত্রী শিক্ষা প্রচারে যথেষ্ট সক্রিয়তার পরিচয় দেন এবং বিধবাবিবাহ সমর্থন করতেন। তিনি বাল্যবিবাহ এবং বহুবিবাহের বিরোধিতা করেন। তিনি আমদানি ও রপ্তানি এবং চালের ব্যবসা করে প্রচুর অর্থোপার্জন করেন।

আলালের ঘরের দুলাল প্যারীচাঁদ মিত্রের শ্রেষ্ঠ এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস। ১৮৫৭ খ্রি. প্রকাশিত এই উপন্যাসটির অন্যতম প্রধান চরিত্র ঠকচাচা । উল্লেখ্য যে এখানে তিনি যে কথ্য ভাষা ব্যবহার করেছিলেন তা আলালী ভাষা নামে পরিচিতি লাভ করেছে। এই গ্রন্থটি ইংরেজিতেও অনুবাদ করা হয়েছিল The spoiled child নামে।

১৮৫৯ সালে মদ খাওয়া বড় দায়, জাত থাকার কি উপায় এ গ্রন্থে উদ্ভট কল্পনা লক্ষ করা যায়।

অভেদী-১৮৭১

আধ্যাত্মিকা-১৮৮০

The Zemindar and Ryots. এই গ্রন্থটি তখনকার সময়ে অনেক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। কারণ এটি রচিত হয়েছিলো চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।

যৎকিঞ্চিৎ-১৮৬৫

রামারঞ্জিকা -১৮৬০

বামাতোষিণী-১৮৭১

গীতাঙ্কুর-১৮৬১

১৮৮৩ সালের ২৩শে নভেম্বরের আজকের এইদিনে তিনি কলকাতায় মৃত্যু বরণ করেন । বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিকের প্রয়াণ দিবসে বিনোদন প্রতিদিন পরিবার জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here