আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃত্যু বার্ষিকী আজ

0
347

আমার জীবনটা জেলখানার মতো’। ‘সরকারের নির্দেশে ২০১২ সালে আমাকে যুদ্ধাপরাধীর ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় সাক্ষী হিসেবে দাঁড়াতে হয়েছিল। সাহসিকতার সঙ্গে সাক্ষ্যপ্রমাণ দিতে হয়েছিল ১৯৭১ সালে ঘটে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলখানার গণহত্যার সম্পূর্ণ ইতিহাস সম্পর্কে। আর ওই গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে আমি একজন। হত্যা করা হয়েছিল একসঙ্গে ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে।

কিন্তু এই সাক্ষ্যের কারণে আমার নিরপরাধ ছোট ভাই মিরাজকে হত্যা করা হবে, তা কখনো ভাবিনি। সরকারের কাছে বিচার চেয়েছি, বিচার পাইনি। ছয় বছর ধরে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারায় গৃহবন্দী থাকি, একমাত্র সন্তানকে নিয়ে। কোনো বাড়ির মালিক আমাকে বাসা ভাড়া দিতে চায় না। যেখানে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ছিলাম, সেই মগবাজারের বাসা ছেড়ে আমি এখন আফতাবনগরের এই বাসা ভাড়া নিয়েছি।’‘একটি ঘরে ছয় বছর গৃহবন্দী থাকতে থাকতে আমি আজ উল্লেখযোগ্যভাবে অসুস্থ। আমার হার্টে আটটা ব্লক ধরা পড়েছে। এখন ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারায় গৃহবন্দী থাকি, একমাত্র সন্তানকে নিয়ে। এ এক অভূতপূর্ব করুণ অধ্যায়।’

কথাগুলো আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের। যাঁর মুক্তিযুদ্ধ কখনো শেষ হয়নি। যখন আমরা বিজয় উৎসব করছিলাম, তিনি তখনো যুদ্ধে।কিছু ব্যক্তিগত ত্যাগ কখনো মূল্যায়িত হয়না, ভাই হত্যার বিচার পায়না, তথাকথিত প্রচন্ড সুসময়েও না।

২০১৯ সালের আজকের তারিখে তিনি পরলোকগমন করেছিলেন

মৃত্যু বার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here