একজন কবির জন্মদিন

0
561

শিমুল সরকার :

একজন মানুষ খুব বকা দেন

একজন মানুষ খুব ভালবাসেন

একজন মানুষ মুখ দেখেই বলে দিতে পারেন অনেক কিছু

তিনি সাধারন মানুষ নন, তিনি কবি

তার কলম মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে

তার কলম বঙ্গবন্ধুর বীরত্বগাঁথা লিখে চলে

তিনি কবি বলেই দেশের সব কবিরা তার ছোট্ট কক্ষে ভিড় জমান জম্পেস আড্ডার লোভ সামলাতে না পেরে।

আমার সে সৌভাগ্য হয়নি, কেননা আমি তো এখনও পাঠকই হয়ে উঠতে পারিনি ঠিকমত।

কবির সঙ্গে আমার পরিচয় গ্রীণরোডে। আমার অতি আপনজন সেলিম সরকারের মাধ্যমে, কমফোর্ট হাসপাতালের ডক্টরস চেম্বারের বিশালকায় অট্টালিকায়। প্রথম সাক্ষাতের দিন কবি তার কবিতা শোনাবার জন্য নির্ধারিত সম্মানী গ্রহণ করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু কি এক ভালবাসার সম্মোহন কবি আর পাঠকের মাঝে হলো, গত ৬/৭ বছরেরও বেশি সময় বহুবার গিয়েছি কবির কবিতা শুনতে, কিন্তু প্রতিবারই বলেছেন তার কবিতার ফি লাগবে না। প্রতিদিনই ভাবি আমি কি এতই ভাল শ্রোতা যে, কবি তার সময় নষ্ট করে আমাকে বিনি পয়সায় কবিতা শুনিয়ে শান্তি খুঁজে পান!! এতটা যোগ্য পাঠক তো আমি নই। তবু কেন এমনটা হয়?

একদিন বুকে পিঠে প্রচন্ড ব্যাথা নিয়ে কবির কাছে গেলাম। কবি সেদিন নতুন কবিতা রচনা করলেন আমার জন্য। কবিতার নাম তুলোধুনা। কবিতার পরতে পরতে বকুনি যেগুলো আমার জন্যই রচনা করছেন কবিয়াল। এই প্রথম কোন কবিয়ালকে স্বচক্ষে দেখার অভিজ্ঞতা হলো সেদিন। এর আগে মুখে মুখে গীত পদ্য রচনার গল্পই শুনেছিলাম শুধু। আধাঘন্টা ব্যপ্তির দীর্ঘ কবিতা শুনে যখন বের হলাম তখন অর্ধমৃত একজন মানুষ আমি‘টা যেন তেজদ্বীপ্ত ঘোড়ায় পরিণত হয়েছি। অসুস্থ হয়ে মানুষ যায় ডাক্তারের কাছে, আর আমি যায় কবির কবিতা শুনতে।

একদিন কবির কাছে গিয়ে জিদ ধরলাম, বললাম আমার শুধুই মনে হয় আমি মারা যাবো, আমি স্ট্রোক করবো। আমার মনেহয় হার্টে বড় কোন সমস্যা হয়েছে। কবি সেদিন তুলোধুনা কবিতার পরের সিক্যুয়ালটা শুনিয়ে বলেছিলেন- কবিরা চেহারা দেখেই বলে দিতে পারে তার ভিতরটার অবস্থা কেমন। তোমার কিছুই হয়নি। আমি জিদ ধরলাম, আজ আর কবিতায় কাজ হবে না মনে হয়। যন্ত্র লাগবে। বুকের ভেতরটায় ব্যাথা, যন্ত্র ছাড়া বুঝবো কিভাবে ব্যাথাটা কিসের? কবি বললেন, ব্যাথাটা মনের। তবু কবি যন্ত্র লাগিয়ে দেখিয়ে দিলেন ব্যাথাটা আমার মনেরই সৃষ্ট। সেদিন থেকে কবি আমার কাছে ঈশ্বরের মত। কবিরা আসলে ঈশ্বরই তো । কবিদের তৃতীয় নয়নটা ঈশ্বরের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে বলেই ভেতরটা বলতে পারেন অনায়াসেই।

আজ কবির জন্মদিন। ভাল থাকবেন কবি। অনুপ্রেরণা হয়েই বেঁচে থাকুন অন্তত শত বছর।

কবিকে কথা দিয়েছিলাম বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখা তার অসাধারন কবিতাটা নিয়ে ভাল একটা কাজ করবো। প্রত্যাশা ছিল মুজিব বর্ষেই সেটি করার। কিন্তু করোনা সব এলোমেলো করে দিলো। করবো একদিন নিশ্চয়।

এতক্ষণ যে কবির কথা বললাম তিনি বাংলাদেশের স্বনামধন্য একজন চিকিৎসক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ট ফেলিউর, রিহ্যাবিলিটেশান এন্ড প্রিভেনটিভ কার্ডিওলোজি বিভাগের প্রধান, প্রফেসর হারিসুল হক। পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে তিনি একজন অসাধারন কবি ও লেখক। দেশের বরেণ্য কবিদের আড্ডা বসে প্রায়ই তার পেশাগত চেম্বারে একটু অবসর পেলেই বা অবসর তৈরি করে। আমার দেখা সেরা চিকিৎসক তিনি। ঔষধের চেয়ে তার মোটিভেশনেই ৮০ ভাগ রোগ সেরে যায়।

শুভ কামনা কবির জন্য

ভাল থাকবেন স্যার

(লেখক : নাট্যকার, নির্মাতা ও সাংবাদিক)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here