একজন শিল্পীর আত্মহত্যা নাকি খুন !?(ভিডিও)

একজন শিল্পীর আত্মহত্যা নাকি খুন !?(ভিডিও)

একজন শিল্পী । একজন রেজাউল করিমের গল্প বলব আজ । রাজশাহীর বাঘা উপজেলার দীঘা গ্রামে তিনি বাস করতেন ।  করতেন বলছি কেন সেটা একটু পরেই বুঝে যাবেন পাঠক ।  এলাকায় পরিচিত এ বাংলার মান্না দে হিসেবে ।  রেজাউল করিমের কন্ঠের মাধুর্য এলাকার মানুষকে মুগ্ধ করে প্রতিদিন ।  তারা ছুটে যান কখনো বাড়িতে, কখনো বাজারে । মান্না দে,  মানবেন্দ্র সতীনাথ যেন কন্ঠে জীবন্ত হয়ে ওঠে তার ।  রেজাউল করিম খুবই সাধারন একজন মানুষ । কখনো দিনমজুর হিসেবে অন্যের মাঠে ,  অন্যের জমিতে চাষাবাদ করেন  । কিন্তু কন্ঠ জুড়ে তার সুরের মহিমা ।  তাকে নিয়েই বিনোদন প্রতিদিন টিম কাজ করবে সিদ্ধান্ত নিলো ।  ১৪ ই আগস্ট পুরো টিম যাচ্ছে বাঘা উপজেলার দীঘাতে , কিন্তু মাঝপথে যখন টাঙ্গাইলের কাছাকাছি বিনোদন প্রতিদিন টিম তখনই একটি ফোন আসলো ।  ফোনের ওপ্রান্তে দৈনিক প্রথম আলোর রাজশাহী ব্যুরো প্রধান আবুল কালাম  মুহম্মদ আজাদ ।  তিনি জানালেন আমাদের আর আসার দরকার নেই ! আমরা যেন ফিরে যাই ঢাকাতে । জানতে চাওয়া হলো কি হলো ? তখন অকল্পনীয় অবিস্মরনীয় অবিশ্বাস্য একটি তথ্য তিনি জানালেন, রেজাউল করিম আর নেই ।  তার লাশ পাওয়া গেছে পার্শ্ববর্তী লালপুর উপজেলার একটি আমবাগানে ঝুলন্ত অবস্থায়,  যেখানে একদিন আগেই তিনি বিয়ে বাড়িতে বাজনা বাজাতে গিয়েছিলেন । সে দিন তিনটা পর্যন্ত বাজনা বাজিয়েছেন তিনি ।  হঠাৎই নাকি তাকে পাওয়া যাচ্ছিলো না। পরে বিকেল চারটার কিছুটা পর উদ্ধার হন  আমবাগানে ঝুলন্ত একজন মানুষ রেজাউল করিম । যেন বাজ পড়লো বিনোদন প্রতিদিন টিমের মাথায় ।  তবু আমাদের সিদ্ধান্ত আমরা যাবো সে পর্যন্ত, আসলেই রেজাউল করিম মারা গেছেন নাকি এই খবরটি মিথ্যে ।  যখন রেজাউল করিমের বাড়িতে বিনোদন প্রতিদিন যাই তখন চতুর্দিকে হাহাকার। আবুল কালাম  মুহম্মদ আজাদ কথা বলতে পারছিলেন না । তার মাধ্যমেই রেজাউল করিম সারাদেশে, সারা বিশ্বে পরিচিত হতে লেগেছিলেন ।  আবুল কালাম  মুহম্মদ আজাদ এর হাত ধরে এটিএন নিউজের আনসাং স্টার এবং অতিসম্প্রতি আজকের পত্রিকায় তার গান সারা বিশ্বকে আলোড়িত করেছে ।  সারা বিশ্বের সাড়া পেয়েছেন রেজাউল করিম । সেই ধারাবাহিকতায় বিনোদন প্রতিদিন তাকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখেছিল।  দু’দিনব্যাপী তার গানের রেকর্ডিং শুটিং সব কিছুর আয়োজন ।  বিনোদন প্রতিদিন তার একেবারে কাছাকাছি, তার বাড়িতে । কিন্তু রেজাউল করিম আর নেই ।  কেউ বিশ্বাস করতে চায় না তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন ।  শিল্পী কেন আত্মহত্যা করবে ? সবারই প্রশ্ন কেন আত্মহত্যা করবে?  এটা আত্মহত্যা নয় খুন। কিন্তু খুনই বা হবেন কেন ? শিল্পীর কেন শত্রু থাকবে ? এরকম অনাহারী একজন সাধারণ গ্রামের মানুষ যিনি কিনা মনের সুখে গান গায় ।  তার শত্রু থাকার কথা নয় ।  পুলিশ বিভ্রান্ত। শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কি খবর আসবে সেটি পরের বিষয়, কিন্তু একজন রেজাউল করিম, একজন সুর সাধক যার কণ্ঠে শত শত গান, আমরা তথ্য পেয়েছি কয়েক হাজার গান মুখস্থ ছিল তার। গানের কোন  ডায়েরি ছিল না, গান গাইতে বললেই গেয়ে ফেলতে পারতেন। এমন একজন শিল্পীর এই অদ্ভুত রকমের চলে যাওয়া আসলেই মেনে নেয়া যায় না। আমরাও মানতে পারিনি। রেজাউল করিম ওপারে নিশ্চয়ই ভালো থাকবেন সুর বুকে নিয়ে। মান্নাদে, মানবেন্দ্রকে বুকে ধারণ করে  ওপারে নিশ্চয়ই ভালো আছেন রেজাউল করিম। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here