একুশে টিভির স্বপ্নদ্রষ্টা সাইমন ড্রিং আর নেই

0
155
Simon Dring is no more

একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিধনযজ্ঞের খবর যিনি বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন, বাংলাদেশের সেই অকৃত্রিম বন্ধু ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। 

সাইমন ড্রিং বৈদেশিক সংবাদদাতা, টেলিভিশন উপস্থাপক এবং তথ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে রয়টার্স, টেলিগ্রাফ ও  বিবিসির হয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পাকিস্তানি বাহিনী যে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালায়; তার প্রতিবেদনেই বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে। ১৯৭১ সালে সাইমন দ্য টেলিগ্রাফের যুদ্ধ প্রতিবেদক হিসেবে কম্বোডিয়ায় সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে টেলিগ্রাফের সম্পাদক তাকে লন্ডন থেকে ফোন করে ঢাকায় চলে আসতে বলেন। 

৬ মার্চ ঢাকা আসেন সাইমন ড্রিং। ঢাকায় আসার পরদিনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ শোনার সুযোগ হয় তার। মঞ্চের খুব কাছে দাঁড়িয়ে পুরো ভাষণ শুনেছিলেন সাইমন। এরপর ঢাকায় বিভিন্ন কাজ করছিলেন। এভাবেই পার হয়ে যায় দুই সপ্তাহ। এসে যায় ২৫ মার্চ। তিনি জানতে পারেন পশ্চিম পাকিস্তানের ইয়াহিয়া খান কোনো সমঝোতা ছাড়াই ঢাকা ত্যাগ করছেন। পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে সাইমন ধারণা করেন ঢাকায় ভয়ংকর কিছু হতে যাচ্ছে। 

এরইমধ্যে বিদেশি সব সাংবাদিকদের একসঙ্গে করে রাখা হয় ইন্টারকন্টিনেন্টালে। তাদের গার্ড দেয় পাকিস্তানের মিলিটারি বাহিনী। তার সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। সব সাংবাদিক জানতে পারেন ঢাকায় গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করেছে পাকিস্তানের সেনারা। রাতেই পাকিস্তানের গোয়েন্দা বিভাগের মেজর সালেক সিদ্দিকী নিরাপত্তার অজুহাতে সব বিদেশি সাংবাদিকদের ঢাকা ত্যাগের নির্দেশ দেন। কিন্তু নিজ ইচ্ছায় বাংলাদেশে থেকে যান সাইমন। 

বাঙালি কর্মচারীদের সঙ্গে সখ্য করে হোটেলেই লুকিয়ে পড়েন সাইমন। ৩২ ঘণ্টা সময় কাটান হোটেলের লবি, ছাদ, বার এবং কিচেনে। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে প্রত্যক্ষ করেন গণহত্যার বাস্তব চিত্র। তার মাধ্যমেই ডেইলি টেলিগ্রাফে ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম খবর প্রকাশ হয়।

১৯৯৭ সালে বিবিসি ছেড়ে তিনি একুশে টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশনের আধুনিকতার অন্যতম রূপকার।

একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় এই ব্রিটিশ সাংবাদিককে ২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননায় ভূষিত করে বাংলাদেশ সরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here