কাজলের পরিবারের সবাই অভিনেত্রী

কাজলের পরিবারের সবাই অভিনেত্রী
বোম্বের এক প্রতিষ্ঠিত চলচ্চিত্র পরিবারে জন্মেছিলেন কাজল। ছবি: সংগৃহীত

কাজল বোম্বের এক প্রতিষ্ঠিত চলচ্চিত্র পরিবারে জন্মেছিলেন । তাঁর পরিবারের কতজন যে চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত, তার কোনো লেখাজোখা নেই। চলচ্চিত্রে কাজল চতুর্থ প্রজন্ম। ফলে অভিনয়ে আসতে খুব একটা কাঠখড় পোড়াতে হয়নি তাঁকে। অনেক স্মরণীয় ছবির সফল এই নায়িকা ২০০১ সাল থেকে পর্দা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে পরিবারকে সময় দিচ্ছেন। আজ এই অভিনেত্রীর জন্মদিন।

পড়াশোনা বাদ

মাত্র ৯ বছর বয়সে ১৯৮৩ সালে ‘ক্যারাটে’ সিনেমায় শিশুচরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন। ‘বেখুদি’ দিয়ে ১৯৯২ সালে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ। পরে অভিনয়ে মনোযোগ দিতে গিয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দেন কাজল।

চলচ্চিত্র পরিবার

বাঙালি–মারাঠি চলচ্চিত্র পরিবারে কাজলের জন্ম। বাবা ছিলেন নির্মাতা সমু মুখার্জি। মা ছিলেন অভিনেত্রী তনুজা। কাজলের ছোট বোন তানিশা মুখার্জিও অভিনেত্রী। অভিনেত্রী নূতন ছিলেন তাঁর খালা। নানি শোভনা সমর্থ ও প্রমাতামহী রতন বাই নিজ নিজ কালে ডাকসাইটে অভিনেত্রী ছিলেন। তাঁর চাচা জয় মুখার্জি ও দেব মুখার্জি ছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক, দাদা শশধর মুখার্জি চলচ্চিত্র পরিচালক। বলিউড অভিনেতা রানি মুখার্জি, সর্বানী মুখার্জি, মনীশ বেল কাজলের কাজিন। তাঁর আরেক কাজিন আয়ান মুখার্জি চলচ্চিত্র পরিচালক।

সেরা জুটি

অজয় দেবগন, সালমান খান, আমির খান—সবার সঙ্গেই জুটি বেঁধেছেন কাজল। কিন্তু শাহরুখ খানের সঙ্গে তাঁর জোড়কে বলা হয় বলিউডের অন্যতম সেরা জুটি। তাঁদের উল্লেখযোগ্য সিনেমা ‘বাজিগর’, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘কভি খুশি কভি গম’, ‘মাই নেম ইজ খান’। ‘ইশক’ ও ‘ফানা’ সিনেমার জন্য আমির খানের সঙ্গে তাঁর জুটিও দর্শক পছন্দ করে।

শাহরুখ খানের সঙ্গে কাজলের জোড়কে বলা হয় বলিউডের অন্যতম সেরা জুটি। ছবি: সংগৃহীত

কনিষ্ঠ পদ্মশ্রী

কাজের স্বীকৃতির জন্য ছয়বার পেয়েছেন ফিল্মফেয়ার। ২০১১ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রীতে ভূষিত করে। কম বয়সী পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সে সময় তিনি ছিলেন দুই নম্বরে।

ক্রাইম দিয়ে শুরু, ভালোবাসা দিয়ে জনপ্রিয়তা

সিনেমাপ্রেমী মানুষের কাছে কাজল মানেই রোমান্টিক নায়িকা। তবে নায়িকা হিসেবে তাঁর প্রথম ছবি কিন্তু ক্রাইম ঘরানার। কাজলের নিজেরও থ্রিলার ঘরানার সিনেমা খুব পছন্দ। কিন্তু পরে আর তাঁকে সেভাবে এই ঘরানার সিনেমায় দেখা যায়নি।

ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রীতে ভূষিত করে। ছবি: সংগৃহীত

ভিলেন চরিত্রে বাজিমাত

রোমান্টিক এই নায়িকা নেতিবাচক চরিত্র করেও রেকর্ড গড়েন। প্রথম নারী শিল্পী হিসেবে নেতিবাচক চরিত্র করে ফিল্মফেয়ার পান। ১৯৯৭ সালে ‘গুপ্ত: দ্য হিডেন ট্রুথ’ সিনেমায় ইশা দিওয়ান চরিত্র করে এই পুরস্কার পান কাজল। তার সহ-অভিনেতা ছিলেন ববি দেওল।

নায়িকা হিসেবে তাঁর প্রথম ছবি কিন্তু ক্রাইম ঘরানার। ছবি: সংগৃহীত

যে সিনেমার জন্য প্রশংসা

‘বাজিগর’ সিনেমা দিয়ে প্রথম ব্যবসায়িক সাফল্য পান কাজল। সে সময় সিনেমাটি আয়ে রেকর্ড গড়ে। বলিউডে শক্ত মাটি পান কাজল। কিন্তু ‘গুপ্ত: দ্য হিডেন ট্রুথ’ ও সাইকোলজিক্যাল সিনেমা ‘দুশমন’–এর জন্য সবচেয়ে বেশি সমালোচকের প্রশংসা পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।

প্রথম নারী শিল্পী হিসেবে নেতিবাচক চরিত্র করে ফিল্মফেয়ার পান। ছবি: সংগৃহীত

কাজল–অজয় প্রেম

অজয় দেবগনের সঙ্গে কাজলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ১৯৯৫ সালে। তখন তাঁর বয়স ১৯ বছর। চার বছর প্রেমের পর ১৯৯৯ সালে বিয়েতে আবদ্ধ হন তাঁরা। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অভিনয়ের কারণে তাঁর গর্ভপাত হয়েছিল। পরে তিনি ২০০৩ ও ২০১০ সালে মা হন। সে সময় তিনি কোনো শুটিং রাখেননি।

অজয় দেবগনের সঙ্গে কাজলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ১৯৯৫ সালে। ছবি: সংগৃহীত

দাতব্য কর্মকাণ্ড

অভিনয়ের বাইরে সমাজকল্যাণমূলক কাজের জন্যও কাজলের খ্যাতি আছে। বিধবা ও শিশুদের নিয়ে কাজ করে বেশি আলোচিত তিনি। এসব কাজের জন্যে ২০০৮ সালে কর্মবীর পুরস্কার পান কাজল।

কাজল। ছবি: সংগৃহীত

শৈশবে কাজল শৈশবে ভীষণ দুষ্টু, একরোখা আর আবেগপ্রবণ ছিলেন কাজল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here