কানে মুজিব এর ট্রেলার যায়নি – শ্যাম বেনেগাল (ভিডিও)

চারিদিকে যখন মুজিব সিনেমার ট্রেলার নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তখন একটি গণমাধ্যমের সাথে সাক্ষাতকারে এটিকে ট্রেলার হিসেবে মানতেই চাননি পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। তিনি এটাকে টিজার হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন ট্রেলার আসছে। যত যুক্তি তুলে ধরেছেন তার চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো –

যারা সমালোচনা করছেন, তাদের উদ্দেশে আমার একটাই কথা বলার–আপনারা তো এখনও আসল ছবিটাই দেখেননি। তার আগে শুধু একটা ট্রেলার দেখে এত গালমন্দ করার কী যুক্তি থাকতে পারে আমার মাথায় ঢুকছে না। ছবিটা মুক্তি পাক, সবাই দেখুন– তারপর দর্শকদের রায় আমি নিশ্চয় মাথা পেতে নেবো।  

আসলে কানে পাঠানোর জন্য আমাদের একটা নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে এটা তৈরি করতেই হয়েছিল। অথচ ওদিকে আমাদের মূল ছবির কাজই এখনও শেষ হয়নি, সম্পাদনার টেবিলে কাটাছেঁড়া চলছে। কিন্তু এর মধ্যেই কানের ডেডলাইন চলে এলো, ফলে ওই অসমাপ্ত কাজ থেকেই চটজলদি একটা ‘টিজার’ তৈরি করে আমাদের সেখানে পাঠাতে হলো।  

তাই যেটা কানে পাঠানো হয়েছে সেটাকে আমি ঠিক ‘মুজিব’র ‘ট্রেলার’ বলতেও রাজি নই– বরং সেটাকে ‘টিজার’ বলাই ভালো। যারা এখন ইউটিউবে বা সোশাল মিডিয়াতে ওটা দেখছেন তাদের ‘টিজার’ হিসেবেই দেখতে অনুরোধ করবো। কারণ, এটা তো খুব পরিষ্কার যে আমাদের ছবিটা এখনও ‘ওয়ার্ক ইন প্রোগ্রেস’ (কাজ চলছে), আর কোনও অসম্পূর্ণ ছবির ট্রেলার বানানো সম্ভবই নয়। কিছু দিনের মধ্যে আপনারা ছবির নতুন একটি ট্রেলার দেখতে পাবেন। আর শুধু ট্রেলারই উন্মুক্ত করা নয়, তারপর দেখবেন গোটা ছবিটাই মুক্তি পাবে

ছবিটা ভালোভাবে শেষ করার জন্য যা সময় লাগবে তা লাগবে…। ওইটুকু সময় কিন্তু আপনাকে দিতেই হবে। একে তো মহামারি আর লকডাউনের জন্য আমাদের কাজে অনেক দেরি হয়েছে, পদে পদে বাধা এসেছে– কিন্তু তার মানে এমন নয় যে ছবিটা আমরা তাড়াহুড়ো করে বানাচ্ছি। আর আমাদের যা শিডিউল আছে, তার থেকে একটা পর্যায়ের চেয়ে খুব বেশি সময়ও আমরা নিতে পারবো না, আবার অনেক আগে তড়িঘড়ি করেও ছবিটা শেষ করতে পারবো না– এই জিনিসটা বুঝতে হবে। 

দেখুন, একটা সত্যি কথা বলি… কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘মুজিব’র ট্রেলার লঞ্চ করা হবে, আমার দিক থেকে অন্তত এরকম কোনও পরিকল্পনা বা উদ্যোগ কখনোই ছিল না। আমার সেরকম কোনও ইচ্ছেও ছিল না। কিন্তু এই ছবির প্রযোজক হলো দুই দেশের সরকার, তারা যখন স্থির করলেন ‘মুজিব’কে উপলক্ষ করে কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দুই দেশ থেকেই খুব হাইলেভেল ডেলিগেশন যাবে– তখন খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের কিছু একটা বানিয়েই দিতে হলো। আর ঠিক সেটাই এখন দর্শকরা দেখছেন।  

আসলে এই কথাটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই, দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত সবচেয়ে বড় ছবি এটা, ‘দ্য বিগেস্ট ফিল্ম’। দুই বন্ধু দেশের মধ্যে এটা একটা সাংস্কৃতিক মাইলস্টোন। সেখানে বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার যদি আমাদের হঠাৎ করেও একটা ট্রেলার বা টিজার বানিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করে, কী করে সেটায় না করা সম্ভব? যারা ওই দেড় মিনিটের টিজার দেখে এত সমালোচনা করছেন তাদের আমি এই কনটেক্সটটা (পটভূমি) মাথায় রাখতে বলবো। এবং অনুরোধ করবো মূল ছবিটার জন্য অপেক্ষা করতে!

তথ্যসুত্র – বাংলা ট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here