কারা হচ্ছেন টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রযোজকদের নেতা!! (ভিডিও)

কারা হচ্ছেন টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রযোজকদের নেতা!!
কারা হচ্ছেন টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রযোজকদের নেতা!!

উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টেলিপ্যাব)-এর ২০২২-২০২৪ মেয়াদের নির্বাচন। আজ ১৯ মার্চ (শনিবার) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমিতে হয়ে গেল এ নির্বাচন।

তবে, এটি কোনো প্যানেলভিত্তিক নির্বাচন না হলেও এবার দুটি সমমনা প্যানেল ঠিকই তৈরি হয়েছে। একটি মনোয়ার পাঠান ও সাজু মুনতাসির প্যানেল অন্যটি রোকেয়া প্রাচী ও সাজ্জাদ হোসেন দোদুল প্যানেল। দুটি প্যানেলেই ২৭ জন করে প্রার্থী নির্বাচন করছেন। এরমধ্যে কার্যকরী নির্বাহী সদস্য পদে ১০ জন, ১৭টি সম্পাদকীয় পদ।

মনোয়ার-সাজু প্যানেলের ইশতেহারে রয়েছে চমক। ‘আমি না, আমরা’ স্লোগান নিয়ে কাজ করছেন তারা। সভাপতি পদপ্রার্থী মনোয়ার হোসেন পাঠান জানান, প্রযোজকদের মিথ্যা আশ্বাস দিতে চান না, কথার ফুলঝুরি ঝরাতে চান না এবং অলীক স্বপ্নও দেখাতে চান না। তারা ততটুকুই বলতে চান যতটুকু আগামী দুবছরে বাস্তবায়নযোগ্য। তারা চান টেলিপ্যাব হবে সবার; যেখানে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং একজন সাধারণ সদস্যের অধিকার এবং সম্মান হবে এক এবং অভিন্ন। ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য ঘোষণার মধ্যে রয়েছে টেলিপ্যাবকে তার সম্মান এবং অবস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির প্রধান সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, প্রযোজকদের অধিকার এবং সম্মান ফিরিয়ে আনা এবং বাস্তবায়ন করা, টেলিপ্যাব অ্যাওয়ার্ড চালু করা যেটি হবে টেলিভিশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো কাজের স্বীকৃতি।

সাজু মুনতাসিরের সাথে সমমনা আরও অনেকে

প্রতি বছর আয়োজন করে টেলিভিশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং সেই কাজগুলোকেই স্বীকৃতি দেওয়া হবে যে কাজগুলো টেলিপ্যাবের সদস্যরা প্রযোজনা করেছেন। সরকার যেন জাতীয় টেলিভিশন পুরস্কার প্রবর্তন করেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সেটি বাস্তবায়ন করতে চান মনোয়ার পাঠান ও সাজু মুনতাসিরের নেতৃত্বে থাকা প্রযোজকরা।

শবনম, নাঈমের সাথে আজকের নির্বাচনে আসা তাঁর ভক্তবৃন্দ

সাজু মুনতাসির বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কাঁদা ছোড়াছুড়ি আমাদের টেলিপ্যাবের সঙ্গে যায় না। কিন্তু নির্বাচনের বিপক্ষের প্যানেলের মধ্যে কোনো ত্রুটি চোখে পড়লে তা আমাদের বলতেই হবে। প্রাচী-দোদুল প্যানেলে যে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছে, তা অত্যন্ত লোভনীয় হলেও তা বাস্তবের সঙ্গে মিল নেই। তারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বেশকিছু টিভি চ্যানেল কর্তৃপক্ষ বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। এমনকি কিছু ইশতেহারে সরকারি মন্ত্রণালয়কে তারা জড়িয়েছে। ফলে তারা সব প্রতিশ্রুতি যে পূরণ করতে পারবে না সেটা চাক্ষুষ। কিন্তু আমরা ভোটারদের বলেছি, আমাদের সাধ্যের মধ্যে যা আছে তা দিয়েই তাদের সহযোগিতা করব। আশা করছি আমরাই জয়ী হব।’

বরেণ্য নাট্য ব্যক্তিত্ব মামনুর রশীদ, নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু সহ অন্যান্যরা

নাটকের সিন্ডিকেট ভেঙে দেবেন জানিয়ে রোকেয়া প্রাচী বলেন, ‘প্রযোজক বাঁচলে ইন্ডাস্ট্রি বাঁচবে। প্রযোজকদের স্বার্থ রক্ষায় নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। টেলিপ্যাব এই দীর্ঘ সময়ে যতটা এগিয়ে যাওয়ার কথা, গতিশীল হওয়ার কথা, সেই জায়গায় কিছুটা ঘাটতি রয়ে গেছে। সেসব ঘাটতি পূরণ করব। আমরা প্রযোজকদের মুনাফা নিশ্চিত করতে চাই।’

সভাপতি পদপ্রার্থী রোকেয়া প্রাচী সাথে সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন দোদুল

সাজ্জাদ হোসেন দোদুল বলেন, ‘বিদেশি ডাবিংকৃত সিরিয়ালের জন্য আমাদের প্রযোজকরা কাজহীন হয়ে যাচ্ছে। বিদেশি ডাবিংকৃত সিরিয়াল বন্ধের জন্য যখন আন্দোলন হয় তখন আমাদের বিপরীত প্যানেল আপস করেছিলেন। তারা যদি আপস না করতেন তাহলে আজ প্রযোজকদের বেকার থাকতে হতো না। এই দিকটি নজর দিয়ে প্রযোজকদের কাজের ব্যবস্থা করে দিতে চাই। মিডিয়াতে আমার জন্ম। মিডিয়ার মানুষই আমার সব। আমি তাদের জন্য নিরলস কাজ করে যেতে চাই।’

নির্বাচনে আসা তারকাদের একাংশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here