কে বেশি সুন্দরী ? সুচিত্রা সেন নাকি সুমিত্রা দেবী (ভিডিও)

কে বেশি সুন্দরী ? সুচিত্রা সেন নাকি সুমিত্রা দেবী (ভিডিও)

গত শতকের মাঝামাঝি বাংলা চলচ্চিত্রে এক অভিনেত্রীর, বলা যায় তৎকালীন সেরা সুন্দরী অভিনেত্রীর আবির্ভাব ঘটে। পরে পাঁচের দশকে অবশ্য সেরা সুন্দরী অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনকে পাই আমরা। বাংলা ছবির সেই সুন্দরী অভিনেত্রী অভিনয়জীবনে মাত্র আঠারোটি ছবিতে অভিনয় করেছেন। কিন্তু সে সময়ের বাঙালি যুব সম্প্রদায়কে আপন সৌন্দর্য ও অভিনয়ে তিনি পাগল করে তুলেছিলেন। তাঁর অভিনীত ছবিগুলি দেখার জন্য কলকাতার সিনেমা হলে সাড়ে চার আনার টিকিটের কাউন্টারে বিরাট লাইন লেগে থাকত। তিনি হলেন সুমিত্রা দেবী । তার আসল নাম নীলিমা চট্টোপাধ্যাটায় । ১৯২৩ সালের ২২শে জুলাই সুমিত্রা দেবী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের শিউড়িতে এক ধনী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কৈশোর বয়সে তিনি প্রবীণ অভিনেত্রী কানন দেবীর সৌন্দর্যে এবং খ্যাতিতে অত্যন্ত প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং অভিনেত্রী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন।

দাদা গুঞ্জল দ্বারা পরিচালিত ১৯৫২ সালের হিন্দি চলচ্চিত্র মমতাতে তাঁর ভূমিকার জন্য তিনি সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি দুই বার ‘সেরা অভিনেত্রী’ বিভাগে বিএফজেএ পুরস্কার লাভ করেছেন। প্রদীপ কুমার ও উত্তম কুমারের মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা তাঁকে তাঁর সময়ের সর্বাধিক সুন্দরী নারী হিসাবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

১৯৪৩ সালে তাঁকে নিউ থিয়েটার্সের অফিসে একটি সাক্ষাতকার এবং পর্দায় চেহারা পরীক্ষার জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল এবং শেষ অবধি কুন্দন লাল সায়গলের বিপরীতে হেমচন্দ্র চন্দরের মেরি বহেন (১৯৪৪)-এ অভিনয়ের জন্য তাঁকে নির্বাচন করা হয়েছিল। এই চলচ্চিত্রটি তৈরির সময় তাঁকে অপূর্ব মিত্রের বাংলা চলচ্চিত্র সন্ধি (১৯৪৪) তে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র ছিল। এই চলচ্চিত্রটি বাণিজ্যিকভাবে প্রচুর সাফল্য অর্জন করে এবং এই চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয়ের জন্য ১৯৪৫ সালে তিনি সেরা অভিনেত্রী বিভাগে বিএফজেএ পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৪০-এর দশকের শেষের দিকে, তিনি ওয়সিয়তনামা (১৯৪৪), ভাই দুজ (১৯৪৭), উঁচ নিচ (১৯৪৮) এবং বিজয় যাত্রা (১৯৪৮)র চলচ্চিত্রের অভিনয় করেছেন। এর ফলস্বরূপ তিন নিজেকে বলিউডের শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। গুঞ্জলের মমতাতে (১৯৫২) একক মা হিসাবে তাঁর চরিত্রে জন্য তিনি সকলদের দ্বারা প্রশংসিত হন। তিনি দিওয়ানা (১৯৫২), ঘুংরু (১৯৫২), ময়ূরপনখ (১৯৫৪), চোর বাজার (১৯৫৪) এবং জাগতে রাহো (১৯৫৬)-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য আরও প্রশংসিত হন।

তিনি বাংলা চলচ্চিত্রেও একজন দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে নিকেজে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর অভিনীত বাংলা চলচ্চিত্রের মধ্যে- অভিযোগ (১৯৪৭), পথের দাবী (১৯৪৭), প্রতিবাদ (১৯৪৮), জয়যাত্রা (১৯৪৮), স্বামী (১৯৪৯), দেবী চৌধুরানী (১৯৪৯), সমর (১৯৫০) এবং দস্যু মোহন (১৯৫৫) উল্লেখযোগ্য। কার্তিক চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত লেখক বিমল মিত্রের ধ্রুপদী সাহিত্য সাহেব বিবি গোলাম (১৯৫৬)-এ একজন জমিদারের সুন্দরী মাতাল স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। হরিদাস ভট্টাচার্যের জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী বাংলা চলচ্চিত্র আঁধারে আলো (১৯৫৭)-তে শোকাহত হৃদয়ের এক বালিকা বিজলির চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি সমালোচকদের কাছ সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়া অর্জন করেছিলেন। ১৯৯০ সালের আজের (২৮ আগস্ট )  এই দিনে না ফেরার দেশে চলে যান সুমিত্রা দেবী। আজ তার ৩১ তম প্রয়াণ দিবস। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here