গাছের কান্নায় গানে গানে কাঁদলেন শ্লোগাণ কণ্যা লাকী

স্লোগানকন্যা লাকী আক্তার কণ্ঠে তুলে নিলেন গান। সুরটাও নিজের। খুললেন স্বনামেই ইউটিউব চ্যানেল। যার শুরুটা হলো ‘গাছেদের কান্না’ শিরোনামের গান দিয়ে। যে গানের গল্পটা বৈশ্বিক হলেও, রয়েছে শাহবাগের রেশ। গত মে মাসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কেটে রেস্তোরাঁ-দোকান নির্মাণের উদ্যোগের বিপরীতে দাঁড়িয়েই লাকীর এই প্রতিবাদী গানচিত্র। যা প্রকাশ পেয়েছে ২৭ জুলাই। গানের কথা-সুর-কণ্ঠে তো বটেই, ভিডিওতেও উঠে এসেছে গাছ ও নীড়হারা পাখিদের কান্নার প্রতিচ্ছবি ও ধ্বনি।    

গানটি তৈরির প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে লাকী আক্তার বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটার পর পাভেল পার্থ দাদা এই গানটি লেখেন। আমাকে পাঠিয়ে বললেন, দেখেন লাকী, এটাকে কিছু করা যায় কিনা। কয়েকদিন ধরে ভেবে ভেবে গানটা সুর করি। তারপর মুয়ীয ভাই আর রেজওয়ান ভাইয়ের সহযোগিতায় বাকি কাজটুকু হয়ে যায়।’

লাকী এখন এক কন্যাসন্তানের মা। নাম সূর্য। বাচ্চাকে বাসায় রেখে গানের কাজটি শেষ করা ছিল তার জন্য খানিকটা চ্যালেঞ্জিং। তার ভাষায়, ‘গানটি রেকর্ডিংয়ের সময় বেশ কষ্ট হচ্ছিল আমার। ফোন সাইলেন্ট থাকলেও বাচ্চার চিন্তা মাথায় ঘুরতো সব সময়। বাসা থেকে ফোন এলে ওপাশ থেকে মনে হয় কান্নার আওয়াজ পাই! অথচ বাচ্চা আমার নিরাপদেই ছিল। আমার মেয়ে এবং পরিবারকে অশেষ ধন্যবাদ এভাবে সাপোর্ট করার জন্য।’

লাকী বলছিলেন, রেকর্ডিংয়ে গেলে তার কানে বাজতো বাচ্চার কান্না। সম্ভবত এটুকু বলতে ভুলে গেলেন, ঘরে-বাইরে সারাক্ষণই তিনি শুনতেন গাছেদের কান্না! তা না হলে, এমন কথায় অতটা দরদী সুর আর কণ্ঠ বসালেন কেমন করে? কথাগুলো এমন- আজকে আমি জারুল  হলাম/ পারুল বোনের লাগি/ ঘর হারালো চিলের ছানা/ ডুকরে উঠে কাঁদি/ আজকে কেন কদম কাঁদে/ বকুল মরে পথে/ করাত কেন কোপ বসালো/ স্মৃতির জয়রথে…। 

গানটির প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে লাকী বলেন, ‘আমরা প্রায়ই একটা স্লোগান দেই। প্রাণ-প্রকৃতি উজাড় করে উন্নয়ন চাই না। কারণ, আমরা জানি আমাদের লড়তে হয় বিকৃত সৌন্দর্যবোধ, প্রাণবিনাশী উন্নয়ন দর্শন এবং দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে। পুরো দেশে অবাধে গাছ কাটা, জমি দখল এসব খবর প্রায়ই আমরা শুনি। কিছু মানুষের সীমাহীন লোভের বলি আমাদের জমিন, বন আর প্রাকৃতিক সম্পদ। এর বিরুদ্ধে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কিংবা চট্টগ্রামের সিআরবি, সুন্দরবন কিংবা লাউয়াছড়া- সবখানেই মানুষের দ্রোহ আছে। লড়াই আছে। এই গানটাতে গাছেদের কান্না কিংবা হাহাকারের সুর কিছুটা শোনা যাবে বলে মনে করছি।’

শেষে লাকীর বিনীত অনুরোধ শ্রোতাদের প্রতি, ‘গানটি প্রকাশ করলাম একেবারেই নিজেদের আগ্রহের জায়গা থেকে। আপনারা শুনবেন এবং মতামত দেবেন। কেমন লাগলো জানাবেন।’ জানিয়েছেনও অনেকেই। যার অধিকাংশই ইতিবাচক। এক গানের ইউটিউব চ্যানেলে ১৩ ঘণ্টায় দেড় হাজারের বেশি ভিউ। কম তো নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here