চঞ্চল চৌধুরীর মায়ের ছবি কি সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর ইস্যু?

0
299
chanchal chowdhury

৯ মে বিশ্ব মা দিবস । মা দিবসে ফেসবুকে মায়ের সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। এ নিয়ে রীতিমতো ট্রলের মুখে পড়েছেন তিনি। ছবিটির নিচে অনেকেই বাজে মন্তব্য করেছেন। উগ্র ধর্মীয় মন্তব্যে আঘাত করেছেন চঞ্চল চৌধুরীকে। ধর্ম প্রশ্ন উঠতেই অস্বস্তি প্রকাশ করেন  এই অভিনেতা। প্রতিবাদও করেছেন তিনি । চঞ্চল চৌধুরী প্রতিবাদে লেখেন  ‘‘ভ্রাতা ও ভগ্নিগণ, আমি হিন্দু নাকি মুসলিম, তাতে আপনাদের লাভ বা ক্ষতি কী? সকলেরই সবচেয়ে বড় পরিচয় ‘মানুষ’। ধর্ম নিয়ে এসকল রুচিহীন প্রশ্ন ও বিব্রতকর আলোচনা সকল ক্ষেত্রে বন্ধ হোক। আসুন, সবাই মানুষ হই।’’

চঞ্চল এই ঘটনার প্রতিবাদে একটি আবৃত্তি করেছেন যা সবাই মন কে নাড়া দিয়েছে ।

https://fb.watch/5p7lU6ZjuR/

এর প্রতিবাদে পরিচালক ,নাট্যকার , অভিনয়শিল্পীদের অনেকেই চঞ্চলের সঙ্গে তার মায়ের সেই ছবিটি নিজেদের ফেসবুকে শেয়ার করেছেন।

নাট্যকার সংঘ এর সভাপতি মাসুম রেজা প্রতিবাদে লিখেছেন – ”চঞ্চল আমার ভাই, চঞ্চল আমার ভাই.. চঞ্চলের মা আমার মা.. চঞ্চলের মা আমার মা.. Chanchal Chowdhury’’ ।

জনপ্রিয় অভিনেতা সাজু খাদেম প্রতিবাদে লিখেছেন – ”চঞ্চল সাজু আত্মার বন্ধু… প্রাণের বন্ধু…একই বাতাস একই আকাশ একই মাটি একই পানি একই ক্যাম্পাস একই দেশ একই পৃথিবী একই স্বপ্ন একই চিন্তা চেতনায়  মাখামাখি  করে বেড়ে উঠা… এখানে চৌধুরী আর খাদেম এর কোনো বেইল নাই…যারা এটাকে বেইল দেন তারা দূরে অন্ধকার গুহায় গিয়ে রূপকথায় বিভোর হয়ে থাকেন আলোতে আসার দরকার নাই …#হোকপ্রতিবাদ’’।

জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাহানাজ খুশি প্রতিবাদে লিখেছেন – “ধর্ম/জন্ম/কর্ম মানুষের জন্মগত অধিকার।কিছু মেধাহীন/গুনহীন কুলাঙ্গার এ সত্য নয় শুধু,সংস্কৃতির সৌন্দর্য্য,এবং প্রফেশনের দায়িত্ব নিয়েও কুৎসিত মন্তব্য করে,তাদের কদর্য্য মানসিকতাই প্রকাশ করে।যে কোন সুযোগ পেলেই,শুধু নেটের শক্তির সুযোগ ব্যবহার করে,অসংখ্য সম্মানী/মানুষকে ,(নারী হলে তো আরও উলম্ফন বাড়তে থাকে),বাজে মন্তব্যে অপদস্ত করতে থাকে।তার উদাহরন মিতা হক আপা/কবরী আপা/ এম পি মমতাজ বেগম কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো পোষ্টে কুৎসিত কমেন্টসে ভরা! শাকিব খানকে নিয়ে দেয়া পোষ্টেও অসভ্যতা বন্ধ হয়নি!! যদের কানা কড়ি যোগ্যতা নাই,কিন্তু ৪৫/৭০ টাকার নেটের মাধ্যমে সফল/যোগ্য/সম্মানী মানুষটিকে বিশদগার করছে!!তবে এটাই বাংলাদেশ নয় বন্ধু।আমাদের ভালবাসা/বিশ্বাসে আর সুকর্মে আমরা শুদ্ধ নিঃশ্বাস নেবো।আমরা আছি,থাকবো,এ কদর্য্য অন্ধকার ভেদ করা আলো জ্বেলে।তবে অবশ্যই আইনের দৃষ্টি আকর্ষন এবং সুষ্ঠু প্রয়োগ আশা করছি!মায়ের জন্য ভালবাসা,শ্রদ্ধা’’।  

নাট্যকার ,  নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল প্রতিবাদে লিখেছেন – “চঞ্চল চৌধুরী তাঁর মা এর সঙ্গে অসামান্য এক ছবি পোস্ট করে সোশ্যাল মিডিয়াতে সাম্প্রদায়িক আক্রমণের স্বীকার হয়েছেন । তাঁদের মা ছেলের অপার্থিব নির্মল হাসির বিপরীতে এই আক্রমন মানসিক ভাবে সম্পূ্র্ণ অসুস্থ এক জাতি সম্পর্কে আমাদেরকে উদ্বিগ্ন করে ! না আমি নিন্দা জানাতে আসিনি । পরিস্থিতি এখন এতটাই ভয়াবহ যে নিন্দা জ্ঞাপন করাটা হাস্যকর মনে হবার সম্ভাবনাই বেশী ! চঞ্চল চৌধুরী একজন শক্তিমান অভিনেতা , তাঁর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও কমবেশী ধারণা রাখি , এইসমস্ত বিকৃত আচরণে তিনি নূণ্যতম বিচলিত হবেন না বলেই প্রত্যাশা রাখি । কেবল সাম্প্রদায়িকতা নয় , মানুষের পরশ্রীকতরতা এখন রিতিমত মানসিক বিকারের পর্যায় পৌঁছেছে । নিজের স্বজাতিকে নানা কারণে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে মানুষ আনন্দ পায় । সর্ববিষয়ে ট্রল করার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে । আমি চেষ্টা করেছি ঘটনার গভীরে যেতে , খুব গভীরে যেতে হয়নি তার আগেই সম্ভবত এই বিকৃতির অন্যতম কারণ আবিস্কার করে ফেলেছি । শোশ্যাল মিডিয়ার কল্যানে সর্বস্তরের মানুষই কিন্তু এখন পার্ফর্মার । শাহরুখ খান থেকে শুরু করে হিরো আলম , টিকটক অপু সকলেই পার্ফর্মার । তো আপনি নিজেও যখন একজন পার্ফর্মার , আপনার থেকে মেধা, মনন এবং যোগ্যতায় এগিয়ে থাকা পার্ফর্মারকে আপনি সহ্য করতে পারেন না ! আপনি এমন কাউকে সামনে রাখতে চান যে আপনার তুলনায় খুবই নীচু যোগ্যতার ! যে সামনে থাকলে নিজেকে সুপিরিয়র ভাবতে আপনার সুবিধা হয় । এই যে হিরো আলম যা ই করে না কেন তার কেন মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ হয় ? এটা কি তার জনপ্রিয়তা ? তা কিন্তু নয় , এই যে তার অশিক্ষা এবং আনাড়ীপনা দিয়ে একেক প্রচেষ্টা , সেটা দেখে বাকি পার্ফর্মাররা নিজেকে সুপিরিয়র ভাবার সুযোগ পায় । হাসাহাসি করে , ট্রল করে আনন্দ পায় । ভেবে দেখুনতো দেশে যে এতো বড় মাপের সংগীত শিল্পী রয়েছেন শেষ কবে তাঁদের কোন গান মিলিয়ন ভিউ হয়েছে ? কারণ তারা পার্ফর্মার হিসাবে প্রশিক্ষিত এবং সুপিরিয়র , তাদেরকে ট্রল করার সুযোগ নেই , সুতরাং এড়িয়ে যাওয়াটাই শ্রেয় । শপিং মল , ফেরীঘাট সব খানের ভীড়ভাট্টা নিয়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে । ছোটলোক , অশিক্ষিত, মুর্খ বলে ট্রল করা হচ্ছে ! ওদিকে গুলশান বনানীতে শপিং এর চাপে বাইরে বেরই হওয়া যায় না , সেটা নিয়ে ট্রল হওয়া তো দূরের কথা , টু শব্দটিও কেউ করে না ! ঐ যে সুপিরয়রদের নোটিস না করাটাই আরামদায়ক , তাই ! নিজের ছোট্ট গন্ডিতে বসে নিজেকে রাজা ভাবার এই সুযোগ কি হাতছাড়া করা যায় ? কোভিড নিয়ে খোদ বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা যেখানে কনফিউজড , এখানে হাতে একটা ফোন নিয়ে বিজ্ঞের মত সকলে মাস্ক পরে কোভিড ঠেকিয়ে দিচ্ছেন ! সন্ধ্যায় পার্কে মাস্ক পরে দৌড়ানোর সময় আমার প্রায়শই প্রশ্ন করতে মন চায় -ভাই আপনাদের মাথায় মাস্ক পরে দৌড়ানোর বাধ্যবাধকতা দেওয়ার বুদ্ধিটা কি করে আসলো ? এর ফলে ফুসফুসে যে ভয়ানক চাপ পড়ে , সেটা সামলানোর বুদ্ধি জানা আছে তো ?’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here