জামিন পেলেন শাহরুখ-পুত্র আরিয়ান

জামিন পেলেন শাহরুখ-পুত্র আরিয়ান,

টানা তিন দিন জামিন শুনানির পর আজ বৃহস্পতিবার আরিয়ান খান, আরবাজ মার্চেন্ট ও মুনমুন ধমেচাকে জামিন দেন বোম্বে হাইকোর্ট। পূর্ণাঙ্গ আদেশ আগামীকাল দেওয়া হবে।
তবে আজ কারাগার থেকে ছাড়া পাচ্ছেন না আরিয়ান খানসহ অপর দুজন। আরিয়ানের আইনজীবী ভারতের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল (এজিআই) মুকুল রোহাতজি বলেছেন, আশা করা হচ্ছে, আগামীকাল অথবা শনিবার কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন তাঁরা।
আরিয়ান খানকে ভারতের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (এনসিবি) আটক করে ২ অক্টোবর। মুম্বাইয়ের আর্থার রোডের কারাগারে রয়েছেন ৮ অক্টোবর থেকে। এ সময়ে মাত্র একবার ছেলের সঙ্গে দেখা করেছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান।
আজ বেলা ৩টার পর উচ্চ আদালতে যুক্তিতর্ক শুরু হয়। এনসিবির পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন এএসজি অনিল সিং। আরিয়ান খান, আরবাজ মার্চেন্ট ও মুনমুন ধমেচার জামিন নামঞ্জুর চেয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তিনি। আইনজীবী মুকুল রোহতাগির যুক্তি ছিল, আরিয়ানের কাছে মাদক পাওয়া যায়নি। তাকে মাদক নিতেও দেখা যায়নি। তাহলে কেন তাকে আটক করা হলো এবং কেনই বা তাকে জামিন দেয়া হবে না।
নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর(এনসিবি) যুক্তি ছিল, আরিয়ানের হোয়াটস অ্যাপ চ্যাটে দেখা যাচ্ছে সে মাদক নেয় এবং মাদককাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ।
রোহতাগি আদালতে বলেছেন, আরিয়ানকে গ্রেপ্তার করাই ভুল ছিল। তার সাংবিধানিক অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। দুই বছর আগের একটা হোয়াটস অ্যাপ চ্যাটের ভিত্তিতে মামলা সাজানো হয়েছে। সেই চ্যাটও এখানে অপ্রাসঙ্গিক। প্রমোদতরীতে যাওয়ার সঙ্গে মাদকের কোনো সম্পর্ক নেই।
এনসিবির যুক্তি ছিল, আরবাজের জুতোর মধ্যে মাদক রাখা ছিল।
রোহতাগি বলেন, এই তরুণদের দরকার হলে রিহ্যাবে পাঠানো হেক। জেলে নয়। যদি তাদের কাছে সামান্য পরিমাণ মাদক পাওয়া যায়, তাহলে রিহ্যাবে পাঠানো উচিত।
এনসিবির আইনজীবী আদালতে বলেন, আরিয়ান নিয়মিত মাদক নেন। তিনি মাদক সংগ্রহ করেন। সেটা তার চ্যাট থেকে জানা যাচ্ছে। দুই পক্ষের যুক্তি শোনার পর হাইকোর্ট তাদের জামিন দিয়েছে।
টানা তিন বার বিশেষ এনডিপিএস আদালতে বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানের জামিন আবেদন খারিজ হওয়ার পর উচ্চ আদালতের দারস্থ হয়েছেন এ তারকা-সন্তান।
মাদককাণ্ডে দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা জেরার পর ৩ অক্টোবর বিকেলে আরিয়ান খানকে গ্রেপ্তার দেখায় এনসিবি। আরিয়ান খানের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি এনডিপিএসের ৮সি, ২০বি, ২৭, ২৯ ও ৩৫ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
মুম্বাইয়ের উপকূলে একটি প্রমোদতরীতে চলমান মাদক পার্টি থেকে ২ অক্টোবর রাতে আরিয়ান খানসহ মোট আট জনকে আটক করে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। যাত্রীর ছদ্মবেশে কর্ডেলিয়া নামে বিলাসবহুল ওই প্রমোদতরীতে চেপে বসেছিলেন এনসিবির গোয়েন্দারা। পরে মাদককাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ২০ জনের বেশি মানুষকে আটক করে এনসিবি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here