ডাক্তারের স্টেথোস্কোপ ছেড়ে সিনেমার প্রেমে পড়লেন শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় (ভিডিও)

ডাক্তারের স্টেথোস্কোপ ছেড়ে সিনেমার প্রেমে পড়লেন শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় (ভিডিও)

১৯৩৬ সালের ২৯শে নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন সকলের ডাক্তারবাবু এবং চলচ্চিত্র ও মঞ্চ শিল্পী শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়। পিতা শৈলেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং সুযোগ্য সর্বগুণ সম্পন্ন সুঅভিনেতা পুত্র শ্বাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। ১৯৫৯ সাল থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত পর পর সাত বছর ভাগনাস প্রবর্তিত নাট্য আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। ওই পর্বে নৌকাডুবি তাঁর অভিনীত সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য নাটক ও চরিত্র।

বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা ছিলেন শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়। উত্তমকুমার, সৌমিত্র, বিশ্বজিতের স্বর্ণযুগে নিজের মতো করে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিলেন তিনি। পেশাগতভাবে চিকিৎসক ছিলেন। কিন্তু অভিনয়ের টানে ছেড়েছিলেন সেই পেশা। ১৯৬০ সালে এমবিবিএস সম্পূর্ণ করার পর চাকরি নিয়েছিলেন কলকাতা পুরসভায় ৷ সেই সঙ্গে চলত মঞ্চাভিনয়ও৷ শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় প্রথম সিনেমার বৃত্তে রাখেন  ১৯৬৫ সালে, মৃণাল সেনের হাত ধরে। অভিনয় করেন ‘আকাশকুসুম’-এ ৷ এই ছবিতেই সহ-নায়ক হিসেবে তিনি পান সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে ৷ এরপর স্ক্রীন ভাগ করে নেন মহানায়কের সঙ্গে। অভিনয় করেন সত্যজিৎ রায়ের ‘চিড়িয়াখানা’-য়৷  এরপর সাফল্য রীতিমতো তাঁর ঘরে এসে ধরা দেয়।  অভিনয় করেন, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, ‘চৌরঙ্গি’, ‘আরোগ্য নিকেতন’,  ‘গণশত্রু’, ‘ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্ট্যান্ট’,‘নায়িকার ভূমিকায়’, ‘অনিন্দিতা’, ‘এখনই’, ‘ছদ্মবেশী’, ‘অমৃতকুম্ভের সন্ধানে’, ‘প্রথম কদম ফুল’ এবং ‘কুহেলী’ একাধিক সফল সিনেমায়। এছাড়াও নব্য পরিচালকদের সঙ্গে তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘লাল দরজা’, ‘মনের মানুষ’, ‘দহন’, ‘দেশ’, ‘আবার অরণ্যে’-তাঁর শিরোপা বর্ণময় রঙিন পালকে ৷ উত্তম কুমার, সৌমিত্র’র যুগের চরিত্রাভিনেতা হিসেবেই থেকে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। তবে আক্ষেপ ছিল না। সিনেমা করলেও ভুলে যাননি মঞ্চকে। ২০০৭ সালের ৫ই জুলাই পরলোক গমন করেন এই গুণী অভিনেতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here