পরীমনির পক্ষে দাঁড়ালেন মাত্র দুজন শিল্পী

পরীমনির পক্ষে দাঁড়ালেন মাত্র দুজন শিল্পী

বুধবার বিকালে রাজধানীর বনানীতে অভিনেত্রী পরীমণির বাসায় চার ঘন্টার বেশি সময় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। তার বাসা থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে র্যাব।

বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে বনানী থানায় মাদক আইনে মামলা করা হয়েছে। পরীমণি গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তার পরিচিতজন, সহকর্মী কেউই বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলেননি। এর আগে বোট ক্লাবের ঘটনায় যারা তাকে কথা বলেছিলেন, সামাজিক মাধ্যমে সরব ছিলেন তারাও এবারের ঘটনায় নিরব।

এই অবস্থায় মধ্যে দু’জন অভিনেত্রী পরীমণিকে নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি ও দিলবার ইয়াসমিন রুহি দু’জনেই পরীমণি যেন ন্যায় বিচার পান সেই দাবী জানিয়েছেন।

জ্যোতিকা জ্যেতি লিখেছেন. মেরুদন্ডহীন হয়ে চুপটি, ঘাপটি মেরে বসে থাকা স্বভাবে নেই, তাই পরীমণিকে নিয়ে কিছু বলতেই হচ্ছে।

পরীমণি আমার কাছে ইন্ডাস্ট্রির সবথেকে সুন্দরী, আবেদনময়ী নায়িকা। তার সাথে আমার কখনো পরিচয় হয়নি কিন্তু আমি তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ। পরীমণির নাম আমি প্রথম আমার এক সাংবাদিক বন্ধুর মুখে শুনেছিলাম সাথে তার রুপের প্রশংসাও। তখন তার কোনো কাজ মুক্তি না পেলেও অনেক ছবি সাইন করেছেন এই নিয়ে নিউজে থাকতেন। ছবির সংখ্যা অল্প বা মানহীন ছবি তবু কিভাবে পরীমণি এত আলোচনায় সেটা নিয়ে কোনোদিন মাথাব্যথা ছিলো না আমার, কিংবা তার কতদামী বাড়ি, গাড়ী সেসব নিয়েও না। কে কিভাবে টাকা ইনকাম করবে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়, যদি সে সমাজবিরোধী কাজ করে আয়ের পথ বেছে নেয় তার জন্য আইন আছে।

মিডিয়ার কাজ করার কারণে পরীমণি সম্পর্কে এই-সেই কানে চলে আসে। যেমন-পরীমণির বিগশট বয়ফ্রেন্ডস, জন্মদিনের বিশাল পার্টির স্পন্সরশিপ, জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে বিগলিত পোজে তারকা-সাংবাদিকদের ছবি, যেন এই পার্টিতে গিয়েই কেউ কেউ জাতে উঠলো, পরীমণিকে প্রেমিকা-বোন-স্ত্রী-মেয়ে নানান সম্পর্কে জড়িয়ে বিভিন্ন স্বার্থ হাসিল করা, পরীমণির নেশা-নাইট-নাগর, শুটিংয়ে সে কি করলো-সেসব নিয়ে রসালো কিচ্ছা।

এসব শুনে আমার মনে হতো মেয়েটার কি কোনো সত্যিকার বন্ধু নেই যে তাকে একটু গাইড করবে! না হয় সে এতিম, অশিক্ষিত, ক্লাসহীন সমাজ থেকে উঠে আসা। কিন্তু ভদ্রলোক যারা তার আশেপাশে থাকতেন তারা শুধু মেয়েটার কাছ থেকে সুযোগ সুবিধাই নিলেন, একটুও দায়িত্ববান হতে পারলেন না !

পর্দার নায়িকাজীবন বাস্তবে যাপন করে একটা মানুষ কিভাবে বাঁচে। কবে যে কি একটা দুর্ঘটনা ঘটে, অসম্ভব সুন্দরী এই নায়িকার জন্য আমার এই শঙ্কটা হতো!

পরীমণির এই সঙ্কট সময়ে একজন নারী হিসেবে আমি চাই, তার সাথে যেন সঠিক বিচার করা হয়। আর যদি তার অপরাধ হয় উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপন, কোটিকোটি টাকার চলাফেরা এসব হয় তাহলে যারা তাকে শৃঙ্খলা থেকে বের করলো, তাদেরকেও ধরা হোক, আইনের আওতায় আনা হোক। তাদেরও বিচার করা হোক। কারণ আমরা সবাই জানি এই কাজগুলো একা একা করা যায় না।

যদি তা নয় তাহলে এই সমাজ ব্যবস্থার প্রতি ধিক্কার জানিয়ে আমি এই সুন্দরী নায়িকাটির সুন্দর জীবনের প্রার্থনায় থাকবো।

দিলবার ইয়াসমিন রুহি লিখেছেন, অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোন ঘটনা ঘটলে ইন্ডাস্ট্রির সবাই চুপ থাকতে পছন্দ করেন । অনেকের মতে এগুলো নিয়ে কথা না বললেই ভালো। আবার অনেকের মতে এগুলোর মধ্যে না যাওয়াই ভালো। কিন্তু কথা হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রির ব্যাপারে অবজারভেশন তো সবারই রয়েছে । নিজস্ব মতামত তো শেয়ার করতেই পারি। এটাতো দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

কাজ করতে যেয়ে অনেককে দেখেছি অনেক ভুলভাল মানুষের হাত ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছে কিন্তু পরবর্তীতে নিজের বিদ্যা বুদ্ধি কাজ করতে যেয়ে নিজস্ব উপলব্ধি থেকে অনেকেই নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছে এবং সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। আবার অনেককে দেখেছি অনেক ভালো সুযোগ পেয়ে কাজ শুরু করেছেন কিন্তু পরবর্তীতে আজেবাজে সংস্পর্শে এসে অনেক আজেবাজে জিনিসের সাথে যুক্ত হয়েছে । আরো অনেক ধরনের অপকর্ম নিজস্ব সুনাম হারিয়েছেন।

আমরা যখন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করি, বিভিন্ন মানুষের সাথে পরিচয় হয়। বিভিন্ন মানুষজনের কাছ থেকে আমরা বিভিন্ন জিনিস শিখি। এমন নয় যে সবাই সবকিছু শিখে এসেছে । একটা নতুন কাজ যখন আমরা শেষ করি আমরা কিন্তু একটার লার্নিং প্রসেসের মধ্যে দিয়ে যাই এবং অনেক কিছু শিখি এবং পরবর্তী কাজটা যাতে আরো সুন্দর হয় সেজন্য আমরা নিজেকে তৈরি করি । জানি না নিজেকে সেভাবে কয়জন তৈরি করতে পারেন। কাজ করতে গেলে অনেকের সাথে অনেক ধরনের সম্পর্ক তৈরি হয়। কারো সাথে ভাই বোনের সম্পর্ক হয়, কারো সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক হয় ,কারো সাথে বাবা বা মায়ের মত সম্পর্ক তৈরি হয়। এই সম্পর্কগুলোর কিন্তু একটা দায় আছে। এমনকি আমার যার সাথে চলি ফিরি তার জন্য কিন্তু আমার একটা দায় রয়েছে ।সে খারাপ কিছু করলে তাকে অ্যালার্ট করাটা বা কারেক্ট করা কিন্তু আমাদের দায়িত্ব। সে জায়গা থেকে আমরা আসলে কতটুকু দায়িত্ব পালন করছি? আমরা যদি কাউকে মা ডাকি তাহলে কিন্তু তার সম্পর্কের বড় একটা দায়িত্ব রয়েছে । আমরা কি আসলেই দায়িত্বটা পালন করি বা করতে জানি? বিপদ আসলে সবাই যে যার মত স্বার্থপরের মত পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।

অনেকেই এখন পরীমণিকে নিয়ে অনেক কিছু বলবে। সে যে অপরাধ করেছে তার শাস্তি হয়তো সে পাবে। কিন্তু আমার প্রশ্ন, সে এতদিনে প্রচুর কাজ করেছে প্রচুর গুণী পরিচালক আর্টিস্ট এর সাথে কাজ করেছে, প্রচুর তার বন্ধুবান্ধব রয়েছে যারা তার সাথে ছবি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশংসাবাণী করতে দেখেছি তারা কি তাকে কখনোই তার এইসব অপকর্মের জন্য তাকে কারেক্ট করেনি? এটা কি তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়েনি? বুঝলাম সে অশিক্ষিত, আজেবাজে মানুষের হাত ধরে এই ইন্ডাস্ট্রি তে এসেছে বাট তাকে কি শুধরানোর জন্য কেউ চেষ্টা করেনি আর যদি না করে থাকে কেন করেনি? একটা সুবুদ্ধি দেয়ার মত মানুষ কি তার চারপাশে ছিল না? সবাই কি তাহলে শুধু তাকে নিজেদের স্বার্থে অপব্যবহার করেছে? তার অপরাধের ভাগ কেউ নেবে না কিন্তু তার তাকে দিয়ে যে ধরনের সুবিধা যেসব লোকজন পেয়েছে তারা কি তার পাশে থাকবে?

শুনেছি সে ৩০/৪০ টা চলচ্চিত্রে কাজ করেছে, তার অপরাধের শাস্তি যেমন আমরা তাকে দিচ্ছি, তার কাজের স্বীকৃতিটা যেন তাকে দিতে ভুলে না যাই। ইতিহাস ঘাঁটলে আমরা দেখতে পারি একজন খুনি অপরাধী তার জীবনের এক পর্যায়ে এসে নিজের উপলব্ধি থেকে নিজেকে পরিবর্তন করেছেন। কেউ কেউ মুনি ঋষি পর্যন্ত হয়ে গেছেন। নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

নিজের এই অপরাধী জীবন থেকে বের হয়ে নিজেকে শুধরে নিক। নতুনভাবে তার জীবনে আমূল পরিবর্তন আসুক বা সুন্দর একটা জীবনের জন্য নিজেকে তৈরী করুক সেই প্রত্যাশাই আমার থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here