ফকির আলমগীরের শেষ যাত্রা

ফকির আলমগীরের শেষ যাত্রা

শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আজ দুপুর ১২টার দিকে প্রয়াত সংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখান থেকে নেওয়া হবে শিল্পীর নিজ এলাকা খিলগাঁওয়ে। স্থানীয় তালতলা কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এই শব্দ–সৈনিকের।

রকার তথা শীর্ষরা চাইছিলেন সবার প্রিয় ফকির আলমগীরকে শেষ শ্রদ্ধা কিংবা বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা যথাযথ করতে। সিদ্ধান্ত হলো, শনিবার বেলা ১২টায় এই সূর্যসন্তানকে বিদায় জানানো হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে। শনিবার ঠিক সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হলো ঝিরঝির বৃষ্টি। যথাসময়ে এলেন জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে, নিথর ফকির আলমগীর। গাড়ি থেকে বেদিতে আসার আর পথে ভিজলেন তিনিও। ভিজলো তার জন্য আগত শতাধিক বন্ধু-স্বজন-ভক্ত-মিডিয়া ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মী। বিস্ময়, এতো এতো মুখের ভিড়ে উল্লেখ কিংবা অনুল্লেখযোগ্য কোনও সংগীতশিল্পীকে চোখে পড়েনি! হতে পারে প্রতিবেদকের বিভ্রম! তবে অন্যদের কাছেও খোঁজ মিলেছে, না সংগীতের কেউ আসেনি এদিন!

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ

তবে এসেছেন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অনেকেই। এরমধ্যে রয়েছেন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো. আখতারুজ্জামান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সদস্যরাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সদস্যরা।

বেলা ১টা বাজার আগেই মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় খিলগাঁও মাটির মসজিদে। সেখানে জোহরের নামাজের পর দ্বিতীয় জানাজা শেষে তালতলা কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে সকাল ১১টায় খিলগাঁও পল্লীমা সংসদের মাঠে ফকির আলমগীরকে ‘গার্ড অব অনার’ দেয়া হয়।

গতকাল শুক্রবার রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জুলাই মধ্যরাত থেকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ফকির আলমগীর। ১৮ জুলাই চিকিৎসকেরা তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেয়। 

জানা গেছে, ১৪ জুলাই ফকির আলমগীরের করোনাভাইরাস পজিটিভ ফল আসে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

ফকির আলমগীর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শিল্পী। তারও আগে থেকে তিনি শ্রমজীবী মানুষের জন্য গণসংগীত করে আসছিলেন। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন ফকির আলমগীর। 

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এরমধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ১৯৮২ সালের বিটিভির ‘আনন্দমেলা’ অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলে। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর। 

তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীতশিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি। 

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে সরকার তাকে একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here