বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিয়ে নির্মিত হচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘মাইক’

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিয়ে নির্মিত হচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘মাইক’

২০২০-২১ অর্থবছরে ২০টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অনুদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত বছরের ১৫ জুন তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে অনুদানপ্রাপ্ত এসব চলচ্চিত্রের নাম ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তিনটি, শিশুতোষ দুটি ও সাধারণ শাখায় ১৫টি চলচ্চিত্রকে অনুদান দেয়া হয়। সেখানে শিশুতোষ ক্যাটাগরিতে এফএম শাহীনের লেখা ‘মাইক’ চলচ্চিত্রটিও স্থান পায়। এর সহযোগী প্রযোজক হিসেবে আছেন ডা. ফেরদৌস খন্দকার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে কেন্দ্র করে নির্মিত হবে পূর্ণদৈর্ঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্র মাইক।

চলচ্চিত্রটি নির্মাণে সরকারি অনুদান পাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এ চলচ্চিত্রের গল্পকার ও প্রযোজক এফএম শাহীন। তিনি বলেন, সরকারের অনুদানপ্রাপ্তির তালিকায় মাইকের নাম দেখে আমি আনন্দিত। আমার কাছে মনে হয়েছে, শিল্পের অন্য কোনো মাধ্যম আমাদের চেতনার জগতে ততটুকু নাড়া দিতে যথেষ্ট নয়, যতটুকু চলচ্চিত্র দিতে পারে।

গত সোমবার মাইক চলচ্চিত্রটির অভিনেতা ও কলাকুশলীদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও গবেষণা উপকমিটির সদস্য মাহমুদ সালাউদ্দিন, অভিনেতা তারিক আনাম খান, নাদের চৌধুরী, চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, অভিনেত্রী তানভীন সুইটি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান

এ সময় মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘একসময় দেশে তৈরি সিনেমা বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করত। এখন এ ধরনের সিনেমা আমাদের মাঝে নেই। চলচ্চিত্রের মান অনেকাংশে কমে যাচ্ছে। দর্শক হারিয়ে গেছে, নাকি সিনেমার মান কমে গেছে, বিষয়টি চিন্তার। আজ দুটো জিনিসই আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে একসময় সাত শতাধিক সিনেমা হল ছিল। এখন তা ১০০-এর নিচে নেমে এসেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংস্কৃতিচর্চা ধীরে ধীরে আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাওয়ার কারণে তৈরি হওয়া শূন্যতা অন্যরা দখল করে নিয়েছে, যা অনেক বেশি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভিত্তি করে মাইক চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে।’ দর্শকদের মনে দাগ কাটবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

চলচ্চিত্রটি নিয়ে মাহমুদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘বাংলা ও বাঙালির কাছে বর্তমানে চলচিত্র নিয়ে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। আমি আশা করব, মাইকের মতো চলচিত্রের মাধ্যমে এ বিরূপ ধারণা দূর হবে এবং সিনেমাজগতে যে ধস নেমেছে সেটার দ্রুত উন্নতি ঘটবে। আমি মনে করি, এ রকম অসংখ্য সিনেমা তৈরি হওয়া এখন সময়ের দাবি। শাহীনের মতো আরো অনেক সৃজনশীল মানুষ এ ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণে এগিয়ে আসবেন, সেটাই আশা থাকবে।’

তারিক আনাম খান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে পেয়ে আমি গর্বিত। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। কবিতা শুনতেন। সাংস্কৃতিক নানা ক্ষেত্রেও তার পূর্ণ বিচরণ ছিল। সেই মহান মানুষকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রে আমি কাজ করছি, নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে।’

‘মাইক’ চলচ্চিত্রের কলাকুশলী

চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ‘মাইক আমাদের বাঙালি জাতির কাছে উৎসব আনন্দের একটি প্রতীক। ছোটবেলা থেকেই মাইক দেখলেই মনে হতো উৎসবমুখর একটি পরিবেশ। কোনো বাড়িতে যদি দেখতাম মাইক ঝোলানো আছে তখন আনন্দ লাগত। জাতি হিসেবে আমাদের আরো বড় একটি আনন্দের বিষয় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। সেই ভাষণকে দেশ থেকে দেশান্তর, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য মাইকের কোনো বিকল্প নেই। সেই ধরনের একটি বিষয় নির্ধারণ করে সিনেমা তৈরি করা হচ্ছে। আমি সেই সিনেমার ছোট একটি অংশ হতে পেরে আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত।’

মাইক চলচ্চিত্রের গল্পকার ও প্রযোজক এফএম শাহীনের সঞ্চালনায় চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলা জার্নালের প্রকাশক ও সম্পাদক হাবিবুর রহমান রোমেল, সাবেক ছাত্রনেতা জসীমউদ্দিন ভূইয়া, ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বরিকুল ইসলাম বাঁধন প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here