বছরের সেরা ১০ বলিউড সিনেমা

0
347

আর মাত্র কয়েকটি ঘণ্টা বাকি।শেষ হতে চললো ২০২০ সাল করোনাভাইরাসের মহামারি নিয়ে আসা বছরটিকে বিদায় করতে পারলেই যেন সবাই বাঁচে বেদনা, শোক আর আতঙ্কে কেটেছে বছরটি। প্রায় সারা বিশ্বই ছিলো ঘরবন্দী হয়ে। তবে এর মধ্যেই মানুষকে হতাশা কাটাতে কাজ করে গেছেন শোবিজের মানুষেরা।বিনোদন দিয়েছে মানুষকে। দেশে দেশে করোনার মধ্যেও সিনেমা মুক্তি পেয়েছে।

সেগুলোর মধ্য থেকেই আলোচনা ও প্রশংসায় বলিউডের সেরা ১০টি সিনেমার দিকে চোখ রাখা যাক-

panga film

শুভ মঙ্গল জিয়াদা সাবধান
আয়ুষ্মান খুরানা, জিতেন্দ্র কুমার, নীনা গুপ্ত এবং গজরাজ রাও অভিনীত হিটেশ কেওয়াল্যা রচিত ও পরিচালিত এই ছবিটির প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। কেন্দ্রীয় চরিত্রে আয়ুষ্মানের সঙ্গে ছিলেন জিতেন্দ্র। দুই পুরুষ প্রেমিক দম্পতিকে নিয়ে এগয়ে চলতে থাকে সিনেমাটির গল্প। দেখানো হয় পরিবার এবং প্রেমের এক বিপরীত মুখি সংঘর্ষর নানা দিক।

ছপাক
এসিডদগ্ধ নারী লক্ষ্মী আগরওয়ালের জীবনী অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন মেঘনা গুলজার। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন মেঘনা ও দীপিকা পাড়ুকোন। প্রেমিকের ছুঁড়ে দেওয়া অ্যাসিডে কিশোরী লক্ষ্মী আগরওয়ালের করুণ বাস্তবতা এই সিনেমাটির মূল উপজীব্য। আপনাকে ভাবাতে বাধ্য করবে দীপিকা অভিনীত মালতি চরিত্রটি।

পাঙ্গা
কঙ্গনা রানওয়াত, জসি গিল, রিচা চাড্ডা এবং নীনা গুপ্তা অভিনীত ‘পাঙ্গা’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন অশ্বিনী আইয়ার তিওয়ারি। সিনেমাটির গল্প এক মহিলা কবাডি খেলোয়াড়ের খেলায় ফিরে আসতে চাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে কঙ্গনার অভিনয় ছিল সিনেমাটিতে প্রশংসনীয়। ‘স্পোর্টস’ ঘরনার সিনেমা হলেও স্বপ্ন পূরণের লক্ষে মানুষের সংগ্রামের চমৎকার গল্প ফুটে উঠেছে দারুণভাবে।

থাপ্পড়
উচ্চবিত্ত সমাজের এক মহিলার গল্প নিয়ে নির্মিত এই সিনেমাটি। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের অত্যাচারের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে ‘থাপ্প’-এ। অনুভ সিনহা পরিচালিত সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন টি-সিরিজের ভূষণ কুমার এবং বিনোদ ভানুশালি। তাপসি পান্নু অভিনীত সিনেমাটি মুক্তি পায় চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি।

কামিয়াব
হার্দিক মেহতা পরিচালিত কামিয়াব সিনেমাটি চলতি বছরের সেরাদের মাঝে অন্যতম একটি। সিনেমাটিতে অভিনয় করেন সঞ্জয় মিশ্র, দীপক দোবড়িওয়াল, মনোজ বক্সি। ২০১৮ সালে বুসান ফ্লিম ফেস্টিভালে মুক্তি পেলেও ভারতে সিনেমাটি মুক্তি পায় চলতি বছরের ৬ মার্চ। ‘কামিয়াব’ হলো বলিউডের উত্তাল দিন থেকে হারিয়ে যাওয়া অভিনেতা সুধীরের নতুন যাত্রা। বলিউড কিং খান শাহরুখ খানের প্রযোজনা সংস্থা এমন এক অভিনেতার জীবনের কাহিনি পর্দায় পরিবেশন করছে, যা দেখে বলিউডকে চিনতে হবে নতুনভাবে।

গুলাবো সিতাবো
সুজিত সরকার নির্মিত চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য লিখেছেন জুহি চতুর্বেদী। রাইজিং সান ফিল্মস-এর ব্যানারে চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন রনি লাহিড়ী ও শীল কুমার। উত্তর ভারতের লখনোউ শহরের একটি বাড়ীর মালিক ও ভাড়াটিয়ার কর্মকাণ্ড নিয়ে নির্মিত এই কাহিনীচিত্রের মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন অমিতাভ বচ্চন ও আয়ুষ্মান খুরানা। ২০১৯ সালে নির্মিত চলচ্চিত্রটি করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রেক্ষাগৃহের বদলে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও নামক অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং সেবায় ১২ জুনে মুক্তি দেয়া হয়। ভারতে সিনেমাটি দারুণভাবে প্রশংসিত হলেও দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার মাইক ম্যাককাহিলকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। মাইক ‘গুলাবো সিতাবো’কে ব্যাখ্যা করেছেন নেতিবাচকভাবে।

Bulbul Film

বুলবুল
‘বুলবুল’ সিনেমার কাহিনি উনিশ শতকের শেষভাগের উপর নির্মিত। অন্ধকারাচ্ছন্ন অস্বাভাবিক ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে এই ভৌতিক থ্রিলারটি। আগের সময়ের নানা কুসংস্কার এবং চলতি সময়ের নির্মাণ সিনেমাটিতে নিয়ে এসেছে নতুনত্ব। আনুশকা শর্মার ক্লিন স্লেট ফিল্মস প্রযোজিত ‘বুলবুল’ সিনেমায় অবিনাশ তিওয়ারি, তৃপ্তি ডিমরি, রাহুল বোস, পাওলি দাম এবং পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় রয়েছেন মুখ্য চরিত্রে। রয়েছেন আরও বেশ কিছু বাঙালি অভিনেতা ও অভিনেত্রী। পরিচালক হিসেবে অনবিতা দত্ত অভিষিক্ত হয়েছেন এ সিনেমা দিয়েই।

রাত একেলি হ্যায়
ছোট শহরের এক পুলিশ কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর জাতিল যাদবকে নিয়ে সিনেমাটির গল্প এগিয়েছে। ক্রাইম থ্রিলার ঘরনার এই সিনেমাটি মুক্তি পায় নেটফ্লিক্সে। এটি পরিচালনা করেছেন হানি ত্রিহান। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী, রাধিকা আপ্তে, শ্বেতা ত্রিপাঠি, তিগমংশু ধুলিয়া, শিবানী রঘুবংশী, নিশান্ত দহিয়া, জ্ঞানেন্দ্র ত্রিপাঠি, ইলা অরুণ, স্বানন্দ কিরকিরে, নীতেশ কুমার তিওয়ারি এবং আদিত্য শ্রীবাস্তব। পুরোপুরি থ্রিলার ঘরনার এই সিনেমাটিকে নেটফ্লিক্সে মুক্তিপ্রাপ্ত ভারতীয় সিনেমার তালিকায় অন্যতম সেরা বলা হয়ে থাকে।

Gunjan Saxena Film

গুঞ্জন সাক্সেনা : কার্গিল গার্ল
ভারতীয় বিমান বাহিনীর পাইলট গুঞ্জন সাক্সেনার জীবনের গল্প দিয়ে সাজানো এই সিনেমাটি। সামরিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করে সাক্সেনা ১৯৯৬ সালে ভারতীয় বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। তিনিই একমাত্র মহিলা যিনি ভারতের ১৯৯৯ এর কারগিল যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সিনেমাটিতে পরিচালক শরণ শর্মা। পরিচালক সিনেমাটিতে সাক্সোনার স্বপ্ন দেখা এবং তা বাস্তবে রুপান্তর এর দিকেই বেশি নজর দিয়েছেন। এই ছবিতে জাহ্নবী কাপুর ছাড়াও আছেন পঙ্কজ ত্রিপাঠী ও অঙ্গদ বেদি। জাহ্নবীর বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন পঙ্কজ ত্রিপাঠী। দাদা হয়েছেন অঙ্গদ বেদি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here