বিকাশ সাংবাদিকতা – নিথর মাহবুব

বিকাশ, বিনোদন সাংবাদিকতাকে যে দিকে বিকশিত করছে সেই অবক্ষয় রোধের কোন উপায় দেখি না। কারণ পত্রিকা থেকে যেভাবে বা যে পরিমান বেতন দেয় তাতে সাংবাদিকদেরও ভালভাবে চলার উপায় নেই। একজন সাংবাদিক যদি তার বেতনের আয় দিয়ে ঠিকমতো চলতেই না পারে তাহলে নিজের আত্মসম্মান কেমন করে ধরে রাখবে? এক কথায় সরকারের যথাযথ দেখভালের অভাবে চরম সংকটে আছেন সৃজনশীল মানুষেরা। কারণ সমাজে এই মানুষগুলো অপেক্ষাকৃত ভাল, সৎ ও মেধাবী থাকে। টাকার জন্য সহজে তারা সবকিছু করতে পারেন না। বিকাশ সাংবাদিকদের তালিকা দেখলে অবাক হয়ে যাই। আবার যে নিউজ সাংবাদিকদের অনুরোধের কারনে করি, পরে শুনি আমার নামে বিকাশ ঠিকই নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ না নিয়েও নেওয়ার তালিকায় চলে যেতে হচ্ছে। তাই অনুরোধ রাখতেও এখন ভয় হয়। আবার সহকর্মীদের অনু্রোধ না রাখলেও মন খারাপ হয়। বিকাশের বিনিময়ে নিউজ করতে বললে না করে দিলে তাও বারবার অনুরোধ থাকে। থাকে কারণ প্রতি নিউজের বিনিময়ে একটা কমিশনতো তার থাকবে। একটা নিউজ বেশি করাতে পারলে তার বেশি লাভ। আবার তাদের অনু্রোধদ না রাখলে; শিল্পী হিসেবে আমার নিজেরও তো নিউজ থাকে, তখন তারা কী আমার নিউজ করবে? কোন দিকে যাব ভেবে পাই না। এ যেন উভয় সংকট। এমন অবস্থায় মাঝে মধ্যে মনে হয় বিনোদন সাংবাদিকতাই ছেড়ে দেই।

কিন্তু সাংবাদিকতা ছেড়ে শুধু শিল্পের চর্চা করে কী টিকতে পারব? এথানেও তো সংকট। আজকাল ভাল কোন শিল্পীর সন্ধান পেলে তাকে প্রমোট করতেও ভয় হয়, অথচ কেউ আসলেই মেধাবী হলে নতুন অবস্থায় তাকে তুলে ধরা একজন সাংবাদিক হিসেবে আমার দায়িত্ব বলে মনে করি। সাংবাদিকতার শুরু থেকে এই কাজটা করে আসছি। এখন সেটা করতে ভয় হয়, কারণ অন্যরা ভাবে টাকার বিনিময়ে প্রমোট করছি। অনেক আগাছা অযোগ্যরা কিছু সাংবাদিকদের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে এখন বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ করিয়ে নিচ্ছে। এসব অশিল্পী আর বিকাশ সাংবাদিকদের কারণে নতুন মেধাবী, মূল ধারার শিল্পীরা ফোকাসে আসতেই পারছে না। যার ফলে শিল্পের কাঠামোটাই আমাদের ভেঙ্গে গেছে। এখন আর শিল্প শিল্পী কোনটাই নেই এই অঙ্গনে। সবখানে হাইব্রিডের ছড়াছড়ি। মূল শিল্পীরা জীবীকার তাগিদে নিজেদেরকে শিল্পের মাঠ থেকে গুটিয়ে নিয়ে অন্য কোন পেশার সঙ্গে যুক্ত করছেন নিজেদেরকে। আর শিল্পের অঙ্গনে যুক্ত হচ্ছে ধনী পরিবারের লোকেরা। শিল্পের সাধনা না করেও শিল্পী উপাধি পেতে টাকা ঢেলে যাচ্ছে ধনীরা। নিজেই নিজের নামের সঙ্গে বড় বড় বিশেষণও যুক্ত করে নিচ্ছেন তারা। আর কুপমন্ডুকের মতো আমাদের নতুন প্রজন্ম এদের মধ্য থেকেই ভালো আর মন্দ বিচার করে তা নিয়ে লাফালাফি করছে। আসলে যে ভালটা হওয়ার কথা ছিল সেটা যে চলে গেছে কল্পনার জগৎ থেকে অনেক অনেক দূরে সেটা বোঝার বোধ তাদের নাই। শিল্পীর তো মূল্যবোধ থাকে, সে ভাল কাজ করতে রাজি থাকবে, কাজের জন্য পরিশ্রম করতে রাজি থাকবে এবং এর বিনিময়ে সে পত্রপত্রিকায় তার মূল্যায়ন চাইবে, নিউজ চাইবে। টাকার বিনিময়ে পত্রিকায় যারা নিউজ ছাপাতে চায় তারা কখনোই শিল্পী হতে পারে? আর সাংবাদিক যখন এভাবে টাকা নিয়ে শিল্পীর নিউজ করে তখন সাংবাদিকের মর্যাদা কী থাকে? শিল্পী বড়জোর বিভিন্ন অকেশনে খুশি হয়ে তার পছন্দের সাংবাদিকদের উপহার দিতে পারে, তাদের আয়োজন করে খাওয়াতে পারে। যারা তাকে প্রচার প্রসারে সহায়তা করে সবসময় পাশে থাকছে এইটুকু তাদের জন্য করতেই পারে। কিংবা তারা কেউ বিপদে পড়লে সহযোগিতার হাত বাড়াতে পারে। কিন্তু নিউজের জন্য কন্ডিশনে যে টাকা বিতরণ করে বা বিনিময় করে, সে কিসের শিল্পী?

ফেসবুক থেকে নেয়া মতামতলেখক – নিথর মাহবুব, মাইম শিল্পী এবং বিনোদন সাংবাদিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here