মধ্যস্বত্বভোগীরা বাজায় ডুগডুগি, নির্মাতারা এখানে কীট পতঙ্গের মতো – জন্মদিনে শিমুল সরকার

0
352

জনপ্রিয় নাট্যকার ও নির্মাতা শিমুল সরকার এর জন্মদিন আজ। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের অতিথি চিত্রগ্রাহক হিসেবে শিমুল সরকারের টেলিভিশন ক্যারিয়ারের শুরু। পড়াশুনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই মঞ্চনাটক, আবৃত্তি, বিতর্ক নিয়েই কেটেছে তার বেশিরভাগ সময়। প্রথমে সমকাল নাট্যচক্রের সঙ্গে থাকলেও ২০০৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষের দিকে গড়ে তুলেন নতুন একটি নাটকের দল নাট্যদুয়ার। উৎপল দত্তের রাইফেল ছিল নাট্যদুয়ারের প্রথম প্রযোজনা। শিমুল সরকার মঞ্চে অন্তত ৪০ টি নাটকের ৫ শতাধিক শো তে অভিনয় করেছেন। নির্দেশনা দিয়েছেন ১৫ টির ও বেশি নাটক। মঞ্চের জন্য লিখেছেন অন্তত ১০ টি নাটক। জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট, বর্তমান ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ও বিজয় সফটওয়ারের উদ্ভাবক মোস্তফা জব্বারের আনন্দ আই আই টি সহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটার মাল্টিমিডিয়া, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, চিত্রগ্রহন, শর্টফিল্ম নির্মাণ ও ফিল্ম মেকিং এর উপর ৩ মাস থেকে ১ বছর মেয়াদী প্রফেশনাল ডিপ্লোমা শেষে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছেন একজন নির্মাতা হিসেবে।

বিভিটিতে কাজের পাশাপাশি সংবাদপত্রে কাজ করেছেন বরেণ্য সাংবাদিক এবিএম মূসা, বেবী মওদুদ এর সাথে সরাসরি। নিয়মিত কাভার স্টোরি লিখেছেন সাপ্তাহিক বিচিত্রাতে। কলাম লিখেছেন দৈনিক যুগান্তরে। দৈনিক মুক্তকণ্ঠে দ্বায়িত্বে ছিলেন একটি ফিচার পাতার।

নাট্যকার ও নির্মাতা হিসেবে পথ চলা শুরু চ্যানেল আই এর কর্ণধার ফরিদুর রেজা সাগরের হাত ধরে ২০০৭ সালে। একুশে পদক প্রাপ্ত বই পাগল পলান সরকারকে নিয়ে ভাল বাংলাদেশের গল্প ছিল তার প্রথম নাটক সায়াহ্নে সূর্যদ্বয়। সে সময় এই নাটকটি নিয়ে প্রচুর লিখালিখি হয়েছিল পত্রপত্রিকায়। প্রথম নাটকেই চমক দেখানো শিমুল সরকার আর থেমে থাকেননি। একের পর এক নাটক নির্মাণ করে দর্শক ভালবাসা পেয়েছেন। শিমুল সরকার নির্মিত নাটকের সংখ্যা ৪ শতাধিক পর্ব ।  তার সবথেকে জনপ্রিয় নাটকের মধ্যে রয়েছে বাংলাভিশনের শত পর্বের ধারাবাহিক ডাইরেক্টার, আরটিভির দীর্ঘ ধারাবাহিক চোরকাব্য, ঈদ ধারাবাহিক হানিমুন ঠ্যালাগাড়ি, টেলিফিল্ম ওয়ান লাখ ইলেভেন হাজার, নাটক আরজু, একুশে টিভির ধারাবাহিক মামার হাতের মোয়া, ঈদ ধারাবাহিক বগা তালেব, টেলিফিল্ম বউ চুরি এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঈদের নাটক মা কে আমার পড়ে না মনে। কিন্তু জনপ্রিয় কোনো নাটকই তেমন একটা টানে না শিমুল সরকার কে। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম শুধুই মা কে আমার পড়ে না মনে । তার নিজেরও প্রিয় নাটক সেটি। তবে ভালবাসা আর প্রাণ দিয়ে যে কাজগুলো করতে চেয়েছেন সেগুলি জনপ্রিয়তার ধারেকাছে যায়নি, কারন তিনি মনে করেন ভাল কাজ জনপ্রিয় হয় না। জানতে চাওয়া হয়েছিল শিমুল সরকারের কাছে তার প্রিয় কাজ গুলোর কথা। তিনি প্রথমেই মুক্তিযুদ্ধের দুটি নাটকের কথা জানালেন, আগুনের ফুল এবং শাস্তি। আরও দুটি কাজ তাকে স্বপ্ন দেখায় সিনেমা বানানোর সেই দুটি হলো অচ্ছুৎ এবং অসমাপ্ত জীবনের গল্প।

টেলিভিশন মিডিয়া নিয়ে শিমুল সরকারের ক্ষোভ আর আক্ষেপের শেষ নেই। তিনি বলেন পুরো এই ইন্ডাস্ট্রিটা চলছে ননপ্রফেশনাল সিস্টেমে। এখানে সিস্টেম বলতেই কিছু নেই। ইন্ডাস্ট্রি হবার কথা প্রযোজক এবং পরিচালক নির্ভর। অথচ সেটি হয়েছে শিল্পী আর টেলিভিশন চ্যানেলের কর্তা নির্ভর। নির্মাতারা এখানে কীট পতঙ্গের মতো মনে হয়। বছরের পর বছর টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নাটকের টাকা আটকিয়ে রাখে, কখনও কখনও মেরে দেবার ঘটনাও ঘটছে। সে কারনেই সত্যিকারের নির্মাতা আর প্রযোজকগণ অসহায় হয়ে পড়েছেন। মধ্যস্বত্বভোগীরা এখানে ডুগডুগি বাজায়। নাটকের মান যাচাইয়ের পরিবর্তে এখানে নাটকের কাস্টিং যাচাই একমাত্র মূল্যায়ন। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রি চলে গেছে ইউটিউবে। আগে টেলিভিনের কনটেন্ট আর তারকা নিয়ে ইউটিউবে ভিডিও মেক করা হতো। আর এখন ইউটিউব স্টারদের নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেল তাদের তারকা আড্ডা জমায়। শিমুল সরকার জানান আমি নিজেও দুটি চ্যানেল থেকে ২০১৩ সালের বকেয়া প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা পাবো। আর এ কারনেই ভাবনাগুলোকে ডাইভার্ট করতে বেশ অনেকদিন নির্বাসনে ছিলাম। এখনকার ভাবনা শুধুই চলচ্চিত্র এবং ওয়েব কেন্দ্রিক। সাথে নতুন ভাবনা যুক্ত হয়েছে, সেটি হলো মঞ্চের অভিজ্ঞতাটা ক্যামেরার সামনে কাজে লাগাতে চাই এবার। অনেক তারকার বাড়াবাড়ি দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত। একটা ভিন্ন ধরনের ওয়েব সিরিজে অভিনয় করছি প্রধান চরিত্রে। আজই সেটির একটি গান রিলিজ হবে। আশা করি ভাল কিছু হবে। জনপ্রিয়ও যে হবে সে ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাশের কালজয়ী চরিত্র কপিলা এবং কুবেরকে নিয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামাজিক ম্যাসেজ নির্ভর কাজটি হচ্ছে। তবে ধরনটা একেবারেই ভিন্ন।

টেলিভিশন মিডিয়াতে কাজের ক্ষেত্রে আপনার কৃতজ্ঞতা বা ঋণ- এমন প্রশ্নের উত্তরে শিমুল সরকার জানান কৃতজ্ঞতা অনেকের কাছে যাদের নাম বলে শেষ করা যাবে না, তবে ঋণী আমি যাদের কাছে তাদের মধ্যে ফরিদুর রেজা সাগর, ম হামিদ, এবিএম মূসা, বেবী মওদুদ, শামীম শাহেদ, সমীর কুশারী, সৈয়দ আশিক রহমান, শফি মন্ডল, বাবু সরকার এর নাম না বললে রীতিমত পাপী হয়ে যাবো আমি।

এখন কি কি কাজ করছেণ বা পরিকল্পনা?

প্রায় ২০টিরও বেশি ওয়েব সিরিজের পাণ্ডুলিপির কাজ করছি। দুটি কমার্শিয়াল ফিল্ম এর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। বিনোদন প্রতিদিন নামে একটা এন্টারটেইনমেন্ট ওয়েব পোর্টালের দ্বায়িত্ব নিয়েছি, নিজে ক্ষুধার জ্বালা বুঝি বলেই ক্ষুধার্তদের খাবার দেয়ার একটা চ্যারিটি সংগঠন ফুড ফর অল এর যাত্রা শুরুর এক বছর অতিক্রান্ত হলো এবং অভিনয়টা নিয়মিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মাঝে অনেকটা সময় বড় দূর্ঘটনাকেন্দ্রিক খারাপ সময়কে জয় করে জমে থাকা ঋণ (ভালবাসার) শোধ দেবার সংগ্রামে আছি বলতে পারেন।

শিমুল সরকার অভিনীত নতুন অয়েব সিরিজের গানটি দেখতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here