মাত্র ১৫ বছর বয়সে রজনীকান্ত সেনের সংগীত রচনার শুরু

মাত্র ১৫ বছর বয়সে রজনীকান্ত সেনের সংগীত রচনার শুরু

 কবি ও গীতিকার হিসেবে খ্যাতিমান রজনীকান্ত সেন। বেশ কিছু কবিতা লিখলেও তার রচনার অধিকাংশই সংগীত। আর এসব সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তিনি নিজস্ব অভিব্যক্তি আর চিন্তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। সে অভিব্যক্তি ঈশ্বরের প্রতি ভক্তিমূলক ও স্বদেশের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসার। আজ তার ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী। রজনীকান্ত সেনের জন্ম ১৮৬৫ সালের ২৬শে জুলাই পাবনা জেলার ভাঙাবাড়িতে। বাবা গুরুপ্রসাদ ছিলেন কীর্তন ও গীতিকাব্যের রচয়িতা।

পনেরো বছর বয়সে রজনীকান্ত কালী সংগীত রচনা করেন। পারিবারিক অনুকূল পরিবেশে এ সময় থেকেই তার কবি প্রতিভার বিকাশ ঘটতে থাকে। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন আইনজীবী। কাজ করতেন রাজশাহী কোর্টে। রাজশাহীতে থাকাকালীন বিশিষ্ট ইতিহাসবেত্তা অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের বাড়িতে বিখ্যাত কবি ও গীতিকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সাথে পরিচয় হয় রজনীকান্তের। দ্বীজেন্দ্রলালের কণ্ঠে হাসির গান শুনে হাসির গান রচনায় অনুপ্রাণিত হন রজনীকান্ত। এই বাড়িতেই গানের আসরে তিনি স্বরচিত গান গেয়েছেন।

রজনীকান্তের কবিতা ও গানের মূল বিষয়বস্তু স্বদেশপ্রেম ও ভক্তি। স্বদেশের প্রতি তার প্রেম কোমল আর স্নিগ্ধ। আর তার ভক্তিগীতি কেবল রবীন্দ্র সংগীতের সঙ্গেই তুলনীয়। তার বিখ্যাত গান ‘মায়ের দেওয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নেরে ভাই, দিন দুখিনী মা যে তোদের তার বেশি আর সাধ্য নাই’ বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। রজনীকান্ত রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নীতি কবিতা ‘অমৃত ও সদ্ভাবকুসুম’ এবং সংগীত সংকলন ‘কল্যাণী’, ‘আনন্দময়ী’, ‘বিশ্রাম’, ‘অভয়া’, ‘মেষ দান’ ইত্যাদি। ১৯১০ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর রজনীকান্ত সেন প্রয়াত হন। যুগ যুগ ধরে তাঁর গান বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে দেশকে প্রবলভাবে ভালোবাসার প্রেরণা জোগায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here