মাত্র ১৫ বছর বয়সে স্বাধীনতা আন্দোলনে যাওয়া একজন কবি (ভিডিও)

মাত্র ১৫ বছর বয়সে স্বাধীনতা আন্দোলনে যাওয়া একজন কবি (ভিডিও)

কবি দীনেশ দাসের জন্মদিন আজ । তিনি ১৯১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর, আদিগঙ্গার তীরে আলিপুরের চেতলা অঞ্চলে মামাবাড়ি (৬৫ এফ জয়নুদ্দি মিস্ত্রি লেন, কলকাতা ৭০০০২৭) জন্মগ্রহণ করেন । তার বাবার নাম হৃষিকেশ দাস, মা কাত্যায়নী দেবী। দীনেশ দাসরা তিন ভাই ও একবোন।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে বারো বছর বয়স থেকে দীনেশ দাস ছড়া লিখতে শুরু করেন। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে ১৫ বছর বয়সে তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। পাশাপাশি ১৯৩০ সালে দীনেশ দাস ম্যাট্রিক ও ১৯৩২ সালে আইএ পাস করেন। এরপর ১৯৩৩-৩৪ সালে উনি স্কটিশ চার্চ কলেজে বিএ ক্লাসে ভর্তি হন। যদিও বিপ্লবী সমিতির কাজ ও কাব্যসাহিত্য চর্চার চাপে বিএ পরীক্ষা দেয়া হয়নি। পরে নতুন করে কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯৩৮ সালে বিএ পাস করেন। ১৯৩৪ সালে দীনেশ দাসের প্রথম কবিতা ‘শ্রাবণে’ দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১৯৩৫ সালে উনি কার্শিয়াংয়ের খয়াবাড়ি চা বাগানে চাকরিতে যোগ দেন। এক বছরের মাথায় ১৯৩৬ সালে উনি কলকাতা ফিরে আসেন।

কলকাতায় ফিরে উনি ‘প্রথমবৃষ্টির ফোঁটা’, ‘মৌমাছি’, ‘নখ’, ‘হাই’, ‘চায়ের কাপে’সহ একে একে নানা কবিতা লিখতে থাকেন। তখনও তার কোনও কবিতা সংকলন প্রকাশিত না হওয়া সত্ত্বেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বাংলা কাব্য পরিচয়’ সংকলন গ্রন্থে ‘মৌমাছি’ কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত করেন। ফ্যাসিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কেবলমাত্র শ্রমিক, কৃষক ও সকল মেহনতি জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ জয়ী হতে পারে এই বিশ্বাস থেকে ১৯৩৭ সালে দীনেশ দাস রচনা করেন ‘কাস্তে’ কবিতাটি। ব্রিটিশ সরকারকে ধোঁকা দিতে পরিকল্পিতভাবে হাতুড়ি শব্দটি বাদ দেয়া হয়। তা সত্ত্বেও সরকারের ভয়ে এক বছর ‘কাস্তে’ ছাপার মুখ দেখেনি। ১৯৩৮ সালে কবিবন্ধু অরুণ মিত্রের সৌজন্যে তা আনন্দবাজার শারদীয়ায় প্রকাশিত হয়। পরে পুলিশ তার বাসস্থান তল্লাশি করে এবং তাকে লর্ড সিন্হা রোডে আটকে রাখা হয়।

১৯৩৯ সালে উনি ক্যালকাটা ন্যাশনাল ব্যাংকে (পরে নাম হয় এলআইসি) যোগ দেন। সাত বছর চাকরির পর ১৯৪৬ সালে কর্মস্থলে ইউনিয়ন গড়তে গিয়ে বাধা পেয়ে উনি কাজে ইস্তফা দেন। এই সময় উনি দৈনিক কৃষক ও মাতৃভূমি কাগজে কিছুদিন কাজ করেন। চলচ্চিত্রে গীতিকার ও সহ পরিচালকের কাজেও যুক্ত ছিলেন। ১৯৪৮ সালে হাওড়া জেলার দেউলপুর বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের কাজ নেন উনি। এক বছর পর কলকাতায় ফিরে এসে স্থায়ীভাবে চেতলা বয়েজ স্কুলে বাংলার শিক্ষকতার কাজে যোগ দেন। দীনেশ দাস ১৯৩৯ সালে ঢাকার উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারী যামিনী বিশ্বাসের তৃতীয়া কন্যা শ্রীমতি মণিকা বিশ্বাসকে বিয়ে করেন। ওনাদের দুই পুত্র শান্তনু ও ভারবী এবং এক কন্যা জোনাকি।

১৯৬১ ও ১৯৭৪ সালে দিল্লিতে জাতীয় কবি সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি কবি রূপে আমন্ত্রিত হন উনি। ১৯৬১-এ উনি আর্থারাইটিস রোগে আক্রান্ত হন। ১৯৮৫ সালের ১৩ মার্চ কবি দীনেশ দাস শ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত দীনেশ দাসের প্রথম শ্রেষ্ঠ কবিতা সংকলন ‘উল্টোরথ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়। ১৯৮০ সালে ওনাকে নজরুল আকাদেমি থেকে প্রথম নজরুল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ওনার শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘রাম গেছে বনবাসে’র জন্য দীনেশ দাস ১৯৮২ সালে রবীন্দ্র পুরস্কারে সম্মানিত হন। দীনেশ দাস ১৯৮৫ সালের ১৩ মার্চ গোপালনগরের পিতৃগৃহে (৪/১ আফতাব মস্ক লেন) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here