মিল্টন খন্দকারের জন্মদিনে নতুন গান “অঞ্জনারে অঞ্জনা”(ভিডিও)

0
235
মিল্টন খন্দকারের জন্মদিনে নতুন গান “অঞ্জনারে অঞ্জনা”

বাংলা সঙ্গীতের ক্যাসেটের যুগ থেকে শুরু করে এখন অবধি বহু শিল্পী যার হাত ধরে নিজের পরিচয় তৈরী করেছেন। তিনি একাধারে একজন শিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক, গীতিকার এবং সুরকার। মিল্টন খন্দকার একজন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। নিজে স্বপ্ন দেখেন,অন্যকে দেখান।সদাহাস্য, নিরহংকারী এই গুণী মানুষটি ১৯৮৮ সাল থেকে আজ অবদি প্রায় ৪০০০ গান উপহার দিয়ে আমাদের টেলিভিশন, রেডিও, অডিও ও সিনেমা শিল্পে গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। কয়েকশো তুমুল শ্রোতাপ্রিয় গানের জননন্দিত এই গীতিকবি ও সুরস্রষ্টা ২০১৩ সালে ‘খোদার পরে মা’ছবির গানের জন্য শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারের সম্মাননা লাভ করেন। এছাড়া ১৯৯৫ সালে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির দেয়া সম্মাননা সহ দেশ বিদেশের অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন তিনি। আজ এই মহান মানুষটির জন্মদিন । শুভ জন্মদিন শুভ জন্মদিন বিনোদন প্রতিদিন পরিবার পক্ষ থেকে শুভ জন্মদিন। মিল্টন খন্দকারের জন্মদিন উপলক্ষে বিনোদন প্রতিদিন “অঞ্জনারে অঞ্জনা” শিরোনামের গান নির্মাণ করে উৎসর্গ করেছে । “অঞ্জনারে অঞ্জনা” গানটির কথা লিখেছেন নাট্যকার পরিচালক শিমুল সরকার , সুর এবং কণ্ঠ দিয়েছেন এস আলী সোহেল।

মিল্টন খন্দকার ১৯৬৭ সালে কুষ্টিয়া শহরের থানা পাড়ায় এক প্রগতিশীল, সংস্কৃতিমনা ও সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।বাবা খন্দকার আহমেদুল হক ছিলেন পেশায় পুলিশ অফিসার।আট ভাই এক বোনের মধ্যে মিল্টন খন্দকার ষষ্ঠ।ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানের জনক।

ছাত্রাবস্থায়ই অভিনয়ের প্রতি অনুরক্ত হয়ে সম্পৃক্ত হন ‘বোধন কুষ্টিয়া নাট্যসম্প্রদায়ের’ সাথে ।অভিনয় করেন অনেক মঞ্চনাটকে। তাঁর অভিনীত মঞ্চনাটকের মধ্যে বন্দি ছেলে, ওরা কদম আলী,আলো একটু আলো,হীরক রাজার দেশে,মিছিল,হারাধনের দশটি ছেলে উল্লেখযোগ্য।নাট্যচর্চা করতে গিয়ে কণ্ঠসাধণার প্রয়োজন হওয়ায় ওস্তাদ খন্দকার মিজানুর রহমান বাবলুর শরণাপন্ন হয়েছিলেন।তাঁর উৎসাহে গানের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে পরে ঢাকায় এসে ভর্তি হন সংগীত মহাবিদ্যালয়ে।

মিল্টন খন্দকার বিয়ে করেন ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চ। তার সহধর্মিনী লুবনা ইয়াসমিন চৌধুরী টেলিভিশনের তালিকাভূক্ত শিল্পী । দুই কন্যা জাইবা নাহিয়ান খন্দকার শ্রেষ্ঠা ও জারা। মিল্টন খন্দকারের জীবনে গানের সূচনাটা একে বারেই ব্যতিক্রম। তার ভাই নির্বাচনে দাঁড়াতেন, সেই নির্বচনকে ঘিরে মিল্টন খন্দকার প্যারোডী গান লিখতেন। সবাই খুব উৎসাহিতও করতেন। তখন তিনি ভাবলেন- যেহেতু প্যারোডী গান লিখতে পারছেন সুতরাং চাইলে মূলধারার গান লেখাটাও অসম্ভব কিছু নয়। সেই থেকে দৃঢ়চিত্ত্বে গানের সাথে সংসার শুরু।

অথচ, ছোট থেকেই তার স্বপ্ন ছিল একজন বড় অভিনেতা হওয়ার। পরবর্তীতে বিষয়টি জানার পর অনেকে তাকে দিয়ে ছবিতে অভিনয় করিয়েছেন। মিল্টন খন্দকার অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ‘পালাবি কোথায়’(এই ছবির প্রথম দৃশ্যেই তিনি নন্দিত অভিনেত্রী সূবর্ণা মুস্তাফাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন)।

এছাড়াও অভিনয় করেছেন পরিচালক এ জে মিন্টুর ‘বাপের টাকা’ ছবিতে। একইভাবে চলচ্চিত্র নির্মাতা এম এ আউয়াল অনেকগুলো ছবিতে সুযোগ দিয়েছে মিল্টন খন্দকারকে। সেই সুবাদে এই পর্যন্ত প্রায় ২০-২৫ টি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। কখনো পুলিশ ইন্সপেক্টর, কখনো উকিল বা অন্য কোন চরিত্রে। নতুন গীতিকবি তৈরির জন্য ১৯৯৭ সালের ১ ডিসেম্বর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘গীতি কাব্য চর্চা কেন্দ্র’।সারা দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় দুই হাজার নবীন গীতিকবি হাতে কলমে গানের কবিতা লেখার কলাকৌশল চর্চা করে গেছেন গীতিকাব্য চর্চা কেন্দ্র থেকে।

তিনি বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি গান লেখাটা হয়তো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিয়ে হয় না। কিন্তু আমি বুঝি। একটি ছেলে অনেক স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সে স্বপ্নের কথা যখন লিখতে যাচ্ছে তখন সেটি উপযুক্ত ফর্মেটে লিখতে পারছে না। ওই ফর্মেট দেখিয়ে দেওয়ার কাজটি করছে আমাদের স্কুল।’’

১৯৮৭ সালে তিনি নিজের লেখা ও সুরে হাসান চৌধুরীর কণ্ঠে ‘সেই তুমি’ অ্যালবাম নিয়ে অডিও বাজারে প্রবেশ করেন।’বেতার জগত’থেকে প্রকাশিত সেই প্রথম অ্যালবামই হিট হয়।তারপর ১৯৮৮ সালে দিলরুবা খান এবং ১৯৮৯ সালে ডলি শায়ন্তনীর গাওয়া ‘হে যুবক’ অডিও শিল্পে এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করে।সুপার ডুপার হিট হয় ‘হে যুবক’! ১৯৯৬ সালে অডিও বাজারে আরেক বিষ্ময় হিসাবে নিয়ে আসেন মনির খান কে।’তোমার কোন দোষ নেই’ নামের মনির খানের গাওয়া সেই অ্যালবাম ও সুপার ডুপার হিট হয়।তার পরের ইতিহাস কম বেশি সবার জানা।অঞ্জনা শিরোনামে ২৬ টির মত গান লিখে,মনির খান কে নিয়ে ১৫ টি একক অ্যালবাম করে দেশ মাতিয়েছেন।

তাঁকে শিল্পী তৈরির কারিগর বলা হয়ে থাকে।নতুনদের নিয়ে নিরীক্ষা করতে পছন্দ করেন তিনি।ডলি শায়ন্তিনী,মনির খান, মনিকিশোর,বাদশা বুলবুল,পলাশ,এস ডি রুবেল,পলি শায়ন্তিনী,সাজু,মহসিন খান,রোকসানা মমতাজ,সুমন বাপ্পী,শশী জাফর,দেবযানী, শান্তা শ্রাবন্তী,জাফর ইকবাল আকাশ প্রমুখ নবাগতদের অডিও বাজারে এনে খ্যাতির শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।

মিল্টন খন্দকারই একমাত্র ব্যক্তি যার একক কথা ও সুরে প্রায় ২০০ টি একক অ্যালবাম রয়েছে এবং সফলও হয়েছে । ১৯৯০ সাল থেকে ‘ঘেরাও’ সিনেমা দিয়ে শুরু করেন সিনেমায় গান লেখা।সেই থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ সিনেমায় গান লিখেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here