মুসলিম রেনেসাঁর কবি হিসেবে তিনি অধিক পরিচিত – ফররুখ আহমদ (ভিডিও)

মুসলিম রেনেসাঁর কবি হিসেবে তিনি অধিক পরিচিত - ফররুখ আহমদ (ভিডিও)

ইসলামি পুনর্জাগরণের কবি ফররুখ আহমদের প্রয়াণ দিবস আজ। ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর তিনি পরলোক গমন করেন।

সমুদ্রের দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়া পাঞ্জেরীর কাছে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, ‘রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরী?’ আপাদমস্তক এই কবি বলেছেন, ‘এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?/সেতারা হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?/তুমি মাস্তুলে আমি দাঁড় টানি ভুলে;/অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরী, নিশ্চিতভাবে এই কবি মুসলিম ঐতিহ্যবাদের কথা বলেছেন।

১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মাঝাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ হাতেম আলী ছিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর। মায়ের নাম রওশন আখতার। ফররুখ ১৯৩৭ সালে খুলনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৩৯ সালে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। পরে স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্যে ভর্তি হলেও পরীক্ষা না দিয়েই তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।

১৯৪৫ সালে মাসিক ‘মোহাম্মাদী’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও স্থায়ীভাবে চাকরি করতেন ঢাকা বেতারে। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও ফররুখ আহমদের কবি পরিচিত ছিল প্রধান।

মুসলিম রেনেসাঁর কবি হিসেবে তিনি অধিক পরিচিত। কারণ তাঁর কবিতা তৎকালীন বাংলার অধঃপতিত মুসলিমদের পুনর্জাগরণের অনুপ্রেরণা জোগায়। দুর্ভিক্ষ পীড়িত মানুষের হাহাকার, আর্তনাদ, অনাহারক্লিষ্টের করুণ পরিণতি, সমকালের সংকট,জরাগ্রস্ত বাস্তবতা এবং সাম্প্রদায়িকতার হিংস্রতা দেখে তিনি দগ্ধ। আর এ সকল অসঙ্গতি-ই তাকে সাহিত্য সাধনায় অনুপ্রেরণা জোগায়।

সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদের অবিস্মরণীয় কাব্যগ্রন্থ। তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো, সিরাজাম মুনীরা, নৌফেল ও হাতেম, কাব্যনাট্য মুহূর্তের কবিতা, ধোলাই কাব্য, হাতেম তায়ী কাহিনীকাব্য নতুন লেখা, কাফেলা, হাবিদা মরুর কাহিনী, সিন্দাবাদ, দিলরুবা।

ফররুখ আহমদ কবি স্বীকৃতি স্বরুপ অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। অন্যতম হলো- বাংলা একাডেমি, প্রেসিডেন্ট পদক ‘প্রাইড অব পারফরমেন্স, আদমজী পুরস্কার, ইউনেস্কো পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here