রাজকাপুর যার গানে সবথেকে বেশি ঠোঁট মিলিয়েছেন (ভিডিও)

রাজকাপুর যার গানে সবথেকে বেশি ঠোঁট মিলিয়েছেন

ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মুকেশ চন্দ মাথুর। গত শতাব্দীর অন্যতম সেরা শিল্পী ছিলেন তিনি। মোহাম্মদ রফি, মান্না দে ও কিশোর কুমারদের মতো কিংবদন্তি পর্যায়ে বিবেচিত এই গায়ক। আজ ২২ জুলাই মুকেশ চন্দ মাথুরের জন্মদিন। ১৯২৩ সালের এই দিনে ভারতের দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি।

মাত্র দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে লেখাপড়ার পর্বে ইতি টানেন মুকেশ চন্দ মাথুর। এরপর তিনি পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টে কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি নিজের কণ্ঠের চর্চা চালিয়ে যান। ওই সময়ে তিনি তার গায়কীর দক্ষতাও পাকা করে নেন।

বোনের বিয়েতে গান করার সময় মুকেশের প্রতিভা নজরে আসে অভিনেতা মতিলালের। তিনি মুকেশকে মুম্বাইতে নিয়ে যান এবং একটি পন্ডিত জগন্নাথ প্রসাদের কাছে তালিমের ব্যবস্থা করে দেন। ওই সময়ে মুকেশ ‘নির্দোষ’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান। একইসঙ্গে সিনেমাটিতে ‘দিল হি বুঝা হুয়া হো তো’ শিরোনামের একটি গানও করেন তিনি।

এরপর থেকে তিনি গান করতে থাকেন বলিউডের বড় বড় সিনেমাগুলোতে। বলিউড সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা রাজ কাপুরের ঠোঁটেই মুকেশ চন্দ মাথুরের গান বেশি পাওয়া গেছে।

মুকেশ চন্দ মাথুর গান করেছেন অসংখ্য সিনেমায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ‘পেহলি নজর’, ‘মেলা’, ‘আগ’, ‘সুহাগ রাত’, ‘বিদ্যা’, ‘আনোকি আদা’, ‘আন্দাজ’, ‘বারাসাত’, ‘আওয়ারা’, ‘শ্রী ৪২০’, ‘পারভারিশ’, ‘ফির সুবাহ হোগি’, ‘ইয়াহুদি’, ‘আনাড়ি’, ‘ছালিয়া’, বোম্বাই কি বাবু’, ‘হাম হিন্দুস্তানি’, ‘মেরা ঘার মেরে বাচ্চে’, ‘আশিক’, ‘এক দিল স আফসানে’, ‘পারাশমনি’, ‘সাঙ্গাম’, ‘ইশারা’, ‘ছোটি ছোটি বাতে’, ‘লাল বাংলা’, ‘তিসরি কাসাম’, ‘রাত অউর দিন’, ‘বিশ্বাস’, ‘হোলি আয়ি রে’, ‘মেরা নাম জোকার’, ‘আনান্দ’, ‘শোর’, ‘দশ নাম্বারি’, ‘বন্দিনী’, ‘দিবার’, ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’, ‘দুনিয়া না মানে’, ‘ফারজ’, ‘সাথি’, ‘সাসুরাল’, ‘পেহচান’ ইত্যাদি।

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অনবদ্য সব গান উপহার দিয়েছেন মুকেশ চন্দ মাথুর। সেই সুবাদে তিনি একবার ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা গায়কের সম্মান পান। এছাড়া চারবার জিতেছেন ফিল্মফেয়ার পুরস্কার।

১৯৭৬ সালের ২৭ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে একটি কনসার্ট করতে যান মুকেশ চন্দ মাথুর। ওই দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসলে যান তিনি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই বেরিয়ে এসে জানান তার বুকে ব্যথা করছে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তার আগেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। চিকিৎসকরা জানান, তিনি হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যুবরণ করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here