রাজনৈতিক কারনে কারাভোগ করেন ৯ বছর

রাজনৈতিক কারনে কারাভোগ করেন ৯ বছর

লেখক, সাংবাদিক ও রাজনীতিক রণেশ দাশগুপ্তর জন্ম ১৯১২ সালের ১৫ জানুয়ারি ভারতের আসাম প্রদেশের ডিব্রুগড় শহরে । তাঁর বাবার নাম অপূর্বরত্ন দাশগুপ্ত ও মা ইন্দ্রপ্রভা দেবী। তাঁর পৈতৃক নিবাস বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলার গাউদিয়া গ্রামে। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় পুরুলিয়ার রামানন্দ পণ্ডিতের পাঠশালায়।

১৯২৯ সালে বাঁকুড়া জিলা স্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন। ভারতীয় স্বাধীনতাসংগ্রামে অংশগ্রহণের কারণে বাঁকুড়া কলেজ থেকে বহিষ্কৃত হন। পরে তিনি কলকাতার সিটি কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। সিটি কলেজে পুলিশের কড়া নজরদারির কারণে লেখাপড়া ব্যাহত হওয়ায় ভর্তি হন বরিশাল ব্রজমোহন কলেজে এবং কমিউনিস্ট রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। দৈনিক, সাপ্তাহিকসহ নানা পত্রিকায় তিনি কাজ করেছেন। ১৯৩৮ সালে সতীশ পাকড়াশীর অনুপ্রেরণায় তিনি গড়ে তোলেন প্রগতি লেখক সংঘ। সোমেন চন্দের হত্যার পর সংঘের পাক্ষিক মুখপত্র প্রতিরোধের প্রায় সব সম্পাদকীয় তিনি লেখেন, যদিও তিনি এর সম্পাদক ছিলেন না। ১৯৫৮ সালে তিনি ঢাকা পৌরসভার নির্বাচনে কমিশনার নির্বাচিত হন।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর রাজনৈতিক কারণে তাকে কারারুদ্ধ করা হয়। গোটা পাকিস্তানি আমলে তিনি বহুবার কারাবাস করেছেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময়ে তিনি জেলে ছিলেন এবং সেখানেই তিনি নাট্যকার মুনীর চৌধুরীকে ‘কবর’ নাটক লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ‘কবর’ নাটকটি তাদের চেষ্টায় কারাগারে মঞ্চস্থ হতে পেরেছিল। কারামুক্তির পর ১৯৫৫ সালে তিনি ‘সংবাদ’ পত্রিকায় সাংবাদিকতার চাকরি গ্রহণ করেন। তার সাহিত্যিক খ্যাতি ঘটে এ সময়েই, ‘উপন্যাসের শিল্পরূপ’ (১৯৫৯) নামে একটি বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ রচনার জন্য। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র-জন্মশতবর্ষ পালনের সময়ে তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়, ১৯৬২ সালে ছাড়া পান, আবার কারারুদ্ধ করা হয় ১৯৬৫ সালে, ছাড়া পান ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সুবাদে। ১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর বিপ্লবী কথাশিল্পী সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লাহ কায়সারসহ একঝাঁক তরুণ উদীচী গঠন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন, দেশ স্বাধীন হলে প্রত্যাবর্তন করেন।

রাজনৈতিক কারণে তিনি প্রায় ৯ বছর কারাভোগ করেন। দক্ষ সাংবাদিক হিসেবে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৭৫ সালের ১ নভেম্বর একটি সভায় যোগ দিতে তিনি কলকাতায় যান। দেশে সামরিক শাসন ও নানা প্রতিকূলতার কারণে তাঁর আর দেশে ফেরা হয়নি। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত সাহিত্যচর্চা করেছেন। মৌলিক লেখার পাশাপাশি বেশ কিছু বই সম্পাদনা করেন। ১৯৯৭ সালের ৪ নভেম্বর আজকের দিনে কলকাতায় তিনি মারা যান। ১৯৯৮ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক দেওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here