সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন নিলয় আলমগীর

আজ অভিনেতা নিলয় আলমগীরের জন্মদিন

’আজকাল ফেসবুকে অনেকে ফান করেও নোংরা কমেন্ট করেন। অনেকটা নিজে আনন্দ পেতে এমনটা করেন। একবারও ভাবেন না যাকে নিয়ে কমেন্ট করছেন তিনি বিষয়টি কিভাবে নিচ্ছেন, তার কতটা বিব্রত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেমন আচরণ করতে হয় সে শিক্ষাটাও এখন থেকে  পারিবারিকভাবে দেওয়া দরকার।  এতে করে ফেসবুকে সাইবার বুলিং অনেকটা কমে আসবে।’ সম্প্রতি নববধুকে নিয়ে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়ার পর সমকালকে কথাগুলো বলছিলেন অভিনেতা নিলয় আলমগীর। 

গত ৭ জুলাই পারিবারিকভাবে প্রেমিকা তাসনুভা তাবাসসুম হৃদিকে বিয়ে করেন নিলয়। কিন্তু তা সবার কাছে প্রকাশ করেছেন তিন দিন হলো। গত ১১ আগস্ট এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিজের বিয়ের খবর জানান নিলয়।

লকডাউনে ঘরোয় আয়োজনে বিয়ে সাড়লেও বিয়ের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে বেশ আয়োজন করেই ফটোশুট করেছেন। তা গণমাধ্যমের কল্যাণে দেখেছেন অনেকেই। নিলয়ও তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কিছু ছবি শেয়ার করেছেন। তাতেই বিপাকে পড়েছেন এই অভিনেতা। শিকার হচ্ছেন সাইবার বুলিংয়ের।  

বিয়ের খবরটিকে কেন্দ্র করে অনেক নেটিজেনই নেতিবাচক মন্তব্য শুরু করে। সেই দিকটি লক্ষ করেই নিলয় এক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘বিয়ে করে রোমান্টিক মুডে আছি, বাজে কিছু লিখবেন না।’

কিন্তু এমন অনুরোধের পরেও নেতিবাচক আক্রমণ থেকে মুক্তি পাননি নিলয়। তাই ফের বাধ্য হয়ে আরেকটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। শনিবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে নিলয় দুঃখ প্রকাশ করে লেখেন, ‘কী যে একটা সমস্যায় আছি। বিয়ে করেছি, ২য় বিয়ে। হালাল সম্পর্ক, বৈধ সম্পর্ক। চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ তো আর করি নাই। নতুন বউ এর সাথে হাসি খুশি ছবি দিলে কমেন্ট করতেসে এত নির্লজ্জ কেন আপনি, ২য় বিয়ে করসেন আবার বউ এর সাথে ছবি দেন। একা ছবি দিলাম তাতেও সমস্যা বিয়ের পর একা ছবি কেন। আমার বিড়াল এর সাথে ছবি দিলাম সেটাও সমস্যা। এক হাজারের উপরে ছবি তুলেছি। গালি খাওয়ার ভয়ে পোস্ট করতে পারছি না। আমার এত ছবি লইয়া আমি এখন কোথায় যাইবো।’

শনিবার সাইবার বুলিংয়ের বিষয়টি নিয়ে কথা হয় নিলয় আলমগীরের সঙ্গে। সাইবার ক্রাইম বিভাগে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করবেন কিনা জানতে চাইলে নিলয় বলেন, ‘সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ করে আসলে তাৎক্ষনিক উপকার হবে কিন্তু এটা রয়েই যাবে। এটা আসলে তাদের সামাজিক শিক্ষার অভাবে হচ্ছে। তাদের সামাজিক ও পারিবারিক শিক্ষাটা আগে দরকার। তবে বিষয়টি নিয়ে আমাদের এখন থেকেই সোচ্চার হতে হবে। এতে করে আগামীতে হয়তো ফল পাওয়া যাবে।’ 

নিলয় আরও বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সর্বোচ্চা ডিগ্রিধারীরাও ফেসবুকের কমেন্ট বক্সে নোংরা মন্তব্য করেন। তার মানে হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদের পারিবারিক, সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক শিক্ষাটাও এখন অতি গুরুত্বপূর্ণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here