সাপ্তাহিক বিচিত্রায় প্রথম কল্পকাহিনী লিখা শুরু মুহম্মদ জাফর ইকবালের (ভিডিও)

সাপ্তাহিক বিচিত্রায় প্রথম কল্পকাহিনী লিখা শুরু মুহম্মদ জাফর ইকবালের (ভিডিও)

মুহম্মদ জাফর ইকবাল হলেন একজন বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক ও বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক, কলম লেখক, পদার্থবিদ, শিক্ষাবিদ ও আন্দোলনকর্মী। তার লেখা কিছু উপন্যাস চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের একজন অধ্যাপক এবং ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত একই বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ কৌশল বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। ২০১৯ সালের অক্টোবরে তিনি অবসরে চলে যান। তিনি ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ক্যলিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনলজি ও বেল কমিউনিকেশনস রিসার্চে ১৮ বছর কাজ করার পর তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত হন।

জাফর ইকবালের জন্ম, ১৯৫২ সালের ২৩ ডিসেম্বর এইদিনে পিতার কর্মস্থল সিলেটে। মুহম্মদ জাফর ইকবালের নাম আগে ছিল বাবুল। তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন। বাবা ফয়জুর রহমান আহমদের পুলিশের চাকরির সুবাদে তার ছোটবেলা কেটেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায়। পিতা লেখালেখির চর্চা করতেন এবং পরিবারের এই সাহিত্যমনস্ক পরিবেশে জাফর ইকবাল খুব অল্প বয়স থেকেই লিখতে শুরু করেন। তিনি তার প্রথম বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখেন সাত বছর বয়সে। ১৯৭১ সালের ৫ মে পাকিস্তানি আর্মি এক নদীর ধারে তার পিতাকে গুলি করে হত্যা করে। বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়া জাফর ইকবালকে পিতার কবর খুঁড়ে তার মাকে স্বামীর মৃত্যুর ব্যাপারটি বিশ্বাস করাতে হয়েছিল।

ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ তার বড় ভাই এবং রম্য ম্যাগাজিন উন্মাদের সম্পাদক ও কার্টুনিস্ট, সাহিত্যিক আহসান হাবীব তার ছোট ভাই। তার বোন তিনজন- সুফিয়া হায়দার, মমতাজ শহীদ ও রুখসানা আহমেদ। কন্যা ইয়েশিম ইকবাল তার কিশোর উপন্যাস আমার বন্ধু রাশেদ ইংরেজিতে রূপান্তর করেছেন Rashed, my friend নামে।

জাফর ইকবাল ১৯৬৮ সালে বগুড়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৭০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। তিনি ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৭৬ সালে স্নাতক পাশ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি অর্জন করতে যান। তার বিষয় ছিল – ‘Parity violation in Hydrogen Atom. সেখানে পিএইচডি করার পর বিখ্যাত ক্যালটেক থেকে তার ডক্টরেট-উত্তর গবেষণা সম্পন্ন করেন।

ড. জাফর ইকবাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন যথাক্রমে ১৯৭৫ ও ১৯৭৬ সালে। ১৯৭৫ সালে অনার্স-এ দুই নম্বরের ব্যবধানে প্রথম শ্রেণীতে ২য় স্থান অধিকার করেন। তিনি একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য মনোনীত হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং তড়িৎ ও বৈদ্যুতিন প্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত থেকে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর অবসর গ্রহণ করেন।

জাফর ইকবাল বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই লেখালেখি করেন। তার প্রথম বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীমূলক গল্প কপোট্রনিক ভালোবাসা সাপ্তাহিক বিচিত্রায় প্রকাশিত হয়েছিল। গল্পটি পড়ে একজন পাঠক দাবি করেন সেটি বিদেশি গল্প থেকে চুরি করা। এর উত্তর হিসেবে তিনি একই ধরনের বেশ কয়েকটি বিচিত্রার পরপর কয়েকটি সংখ্যায় লিখে পাঠান।

তার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে এই গল্পগুলো নিয়ে কপোট্রনিক সুখ-দুঃখ নামে একটি বই প্রকাশিত হয়। এই বইটি পড়ে শহীদ-জননী জাহানারা ইমাম প্রশংসা করেন। আমেরিকাতে বসেই তিনি বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী রচনা করেন। দেশে ফিরে এসেও তিনি নিয়মিত বিজ্ঞান-কল্পকাহিনী লিখে যাচ্ছেন, প্রতি বইমেলাতে তার নতুন সায়েন্স ফিকশন বা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী প্রকাশিত হয়।

তিনি দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক কালের কন্ঠ সহ একাধিক পত্রিকায়সাদাসিধে কথা নামে নিয়মিত কলাম লিখে থাকেন। তার লেখা কলামগুলোর বিষয়বস্তু হচ্ছে রাজনীতি এবং দেশের সমসাময়িক ঘটনা। তবে ২০২০ সালের ২৫ ডিসেম্বর নিজের লেখা এক কলামে সাদাসিধে কথা থেকে বিরতি নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং ২০২০ কে একটি ‘দুঃখের বছর’ বলে অভিহিত করেন।

বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড গড়ে তোলার পিছনে তার অবদান রয়েছে। গণিত শিক্ষার উপর তিনি ও অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বেশ কয়েকটি বই রচনা করেছেন। এর মাঝে “নিউরনে অনুরণন” ও “নিউরনে আবারো অনুরণন” বই দুটি উল্লেখযোগ্য। তিনি —

•          বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ২০০৪;

•          শ্রেষ্ঠ নাট্যকার হিসেবে ২০০৫ সালে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার

•          কাজী মাহবুবুল্লা জেবুন্নেছা পদক, ২০০২;

•          খালেদা চৌধুরি সাহিত্য পদক, বাংলা ১৪১০;

•          শেলটেক সাহিত্য পদক ২০০৩

•          ইউরো শিশুসাহিত্য পদক ২০০৪

•          মোহা. মুদাব্বর-হুসনে আরা সাহিত্য পদক ২০০৫

•          মার্কেন্টাইল ব্যাংক সম্মাননা পদক ২০০৫

•          আমেরিকা অ্যালুমনি এ্যসোসিয়েশন পদক ২০০৫

•          ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালুমনি এ্যাসোসিয়েশন পদক ‘০৫।

•          ২০১৩ সালে আমার বন্ধু রাশেদ চলচ্চিত্র এর শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার এর জন্য ৩৬তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (বাংলাদেশ) পান।

•          জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পুরস্কার আজীবন সম্মাননা পান ।

তাঁর উপন্যাসগুলো হলো–

আকাশ বাড়িয়ে দাও (১৯৮৭), বিবর্ণ তুষার (১৯৯৩), দুঃস্বপ্নের দ্বিতীয় প্রহর (১৯৯৪), কাচসমুদ্র (১৯৯৯), সবুজ ভেলভেট (২০০৩), ক্যাম্প (২০০৪), মহব্বত আলীর একদিন (২০০৬), হটলাইন (২০১৯), প্রজেক্ট আকাশলীন (২০২০) ।

ছোট গল্প–

একজন দুর্বল মানুষ (১৯৯২), ছেলেমানুষী (১৯৯৩), নুরূল ও তার নোটবই (১৯৯৬), মধ্যরাত্রিতে তিন দুর্ভাগা তরুণ (২০০৪) ।

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী–

কপোট্রনিক সুখ দুঃখ (১৯৭৬), মহাকাশে মহাত্রাস (১৯৭৭), ক্রুগো, ট্রাইটন একটি গ্রহের নাম (১৯৮৮), বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিষ্কার, ওমিক্রমিক রূপান্তর (১৯৯২), টুকুনজিল, যারা বায়োবট (১৯৯৩), নি:সঙ্গ গ্রহচারী (১৯৯৪), ক্রোমিয়াম অরণ্য, ত্রিনিটি রাশিমালা (১৯৯৫), নয় নয় শূন্য তিন, অনুরণ গোলক (১৯৯৬), টুকি ও ঝায়ের (প্রায়) দুঃসাহসিক অভিযান, পৃ , রবো নগরী (১৯৯৭), একজন অতিমানবী, সিস্টেম এডিফাস (১৯৯৮), মেতসিস (১৯৯৯), ইরন, জলজ,

শাহনাজ ও ক্যাপ্টেন ডাবলু (২০০০), ফোবিয়ানের যাত্রী, প্রজেক্ট নেবুলা (২০০১), ত্রাতুলের জগৎ, বেজি (২০০২), সায়রা সায়েন্টিস্ট, ফিনিক্স (২০০৩), সুহানের স্বপ্ন, অবনীল (২০০৪)

নায়ীরা, বিজ্ঞানী অনিক লুম্বা (২০০৫), রুহান রুহান (২০০৬), জলমানব (২০০৭), অন্ধকারের গ্রহ (২০০৮), অক্টোপাসের চোখ, ইকারাস (২০০৯), রবোনিশি (২০১০), প্রডিজি (২০১১), কেপলার টুটুবি (২০১২), ব্ল্যাক হোলের বাচ্চা (২০১৩), এনিম্যান, এখন তখন মানিক রতন (২০১৪), সেরিনা (২০১৫), ক্রেনিয়াল, তিতুনি এবং তিতুনি (২০১৬), রিটিন (২০১৭), ত্রাতিনা (২০১৮), নিয়ান (২০১৯), গ্লিনা, প্রজেক্ট আকাশলীন (২০২০), বন বালিকা (২০২১) ।

কিশোর উপন্যাস–

হাতকাটা রবিন (১৯৭৬), দীপু নাম্বার টু (উপন্যাস) (১৯৮৪) (চলচ্চিত্র রূপ, ১৯৯৬), দুষ্টু ছেলের দল (১৯৮৬), আমার বন্ধু রাশেদ (১৯৯৪) (চলচ্চিত্র রূপ, ২০১১), টি-রেক্সের সন্ধানে (১৯৯৪), স্কুলের নাম পথচারী, জারুল চৌধুরীর মানিকজোড় (১৯৯৫), রাজু ও আগুনালির ভুত (১৯৯৬), বকুলাপ্পু (১৯৯৭), বুবুনের বাবা, বাচ্চা ভয়ংকর কাচ্চা ভয়ংকর (১৯৯৮), নিতু ও তার বন্ধুরা (১৯৯৯), মেকু কাহিনী (২০০০), শান্তা পরিবার, কাজলের দিনরাত্রি(২০০২), কাবিল কোহকাফী (২০০৩), দস্যি ক’জন (২০০৪), আমি তপু (২০০৫), লিটু বৃত্তান্ত (২০০৬), লাবু এল শহরে, বৃষ্টির ঠিকানা (২০০৭), নাট বল্টু (২০০৮), মেয়েটির নাম নারীনা (২০০৯), রাশা (২০১০), আঁখি এবং আমরা ক’জন, দলের নাম ব্ল্যাক ড্রাগন (২০১১), রাতুলের রাত রাতুলের দিন, রূপ-রূপালী (২০১২), ইস্টিশন, গাব্বু (২০১৩), টুনটুনি ও ছোটচাচ্চু, গ্রামের নাম কাঁকনডুবি (২০১৪), আরো টুনটুনি ও আরো ছোটাচ্চু (২০১৫), আবারো টুনটুনি ও আবারো ছোটাচ্চু (২০১৭), তবুও টুনটুনি তবুও ছোটাচ্চু, সাইক্লোন(২০১৮), তখন টুনটুনি যখন ছোটাচ্চু (২০১৯) ।

কিশোর গল্প–

আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা (১৯৯৬), আধুনিক ঈশপের গল্প (১৯৯৬), তিন্নি ও বন্যা (১৯৯৮) ।

শিশুতোষ গল্প–

বুগাবুগা (২০০১), সাগরের যত খেলনা (২০০২), রতন, ঘাস ফড়িং, হাকাহাকি ডাকাডাকি (২০০৮), ভূতের বাচ্চা কটকটি (২০১১), বাপ্পার বন্ধু (২০১৪), ইঁদুর এবং দুষ্ট হাতি (২০১৬), ভূতের বাচ্চা সোলায়মান (২০১৭), বড় হবে ঝিলমিল (২০১৮) ।

ভ্রমণ ও স্মৃতিচারণ–

দেশের বাইরে দেশ (১৯৯৭), আমেরিকা (১৯৯৭), সঙ্গি সাথী পশু পাখি (১৯৯৩), আধ ডজন স্কুল (১৯৯৬), তোমাদের প্রশ্ন আমার উত্তর (২০০৪), রঙিন চশমা (২০০৭), আরো প্রশ্ন আরো উত্তর (২০১২) ।

বিজ্ঞান ও গণিত বিষয়ক–

দেখা আলো না দেখা রূপ (১৯৮৬), বিজ্ঞানের একশ মজার খেলা (১৯৯৪), নিউরণে অনুরণন (২০০২), নিউরণে আবারো অনুরণন (২০০৩), গণিত এবং আরও গণিত (২০০৩), আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড: প্রশ্ন ও উত্তর (২০০৪), একটু খানি বিজ্ঞান (২০০৭), গণিতের মজা মজার গণিত (২০০৭), থিওরি অফ রিলেটিভিটি (২০০৮), কোয়ান্টাম মেকানিক্স (২০০৯), আরো একটু খানি বিজ্ঞান (২০১০), সহজ ক্যালকুলাস (২০১৭), বিগ ব্যাং থেকে হোমো স্যাপিয়েনস (২০১৮)।

ভৌতিক সাহিত্য–

প্রেত (১৯৮৩), পিশাচিনী (১৯৯২), নিশিকন্যা (২০০৩), ছায়ালীন (২০০৬), ও (২০০৮), দানব (২০০৯), অন্যজীবন (২০১৬) ।

টিভি নাটক–

ফসিল, প্রেত, গেস্ট হাউস, ঘাস ফড়িঙের স্বপ্ন, শান্তা পরিবার, একটি সুন্দর সকাল, লিরিক

রেডিও নাটক–

শুকনো ফুল রঙ্গিন ফুল (২০১১) সহায়তায় ইউনিসেফ

মুক্তিযুদ্ধের দলিল হিসাবে ছিল–

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস (২০০৯),  ছোটদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস (২০০৯) ।

২০১৮ সালের ৩ মার্চে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) উৎসবের রোবটিক প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইকবালের মাথায় হামলা চালায়। আজ ২৩ ডিসেম্বর । বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক ও বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক, কলম লেখক, পদার্থবিদ, শিক্ষাবিদ ও আন্দোলনকর্মী অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের জন্মদিনে বিনোদন প্রতিদিন পরিবারের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here