সুগন্ধি বিক্রেতা অভিনেতা এখন ৫০০ মিলিয়ন এর মালিক

তিন–তিনবার ডাইভিং পরীক্ষায় ফেল করেন জেসন স্টেথাম। এই মানুষটাই পরে ব্রিটেনের ন্যাশনাল ডাইভিং টিমের সদস্য হয়ে কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেন। পেটের তাগিদে একসময় রাস্তায় রাস্তায় বিক্রি করতে হয়েছে নকল পারফিউম আর জুয়েলারি সামগ্রী। মডেলিং থেকেই তাঁর ভাগ্য বদলে যায়।

ব্রিটেনের ন্যাশনাল ডাইভিং টিমের সদস্য হয়ে ১৯৯০ সালে কমনওয়েলথ গেমসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। ডাইভিংয়ে তাঁর ১২ বছর কেটেছে। এখান থেকেই প্রথম বিভিন্ন পণ্যের মডেল হওয়ার প্রস্তাব পান।

পেট চালানোর জন্য লন্ডনের রাস্তায় তাঁকে নকল পারফিউম ও জুয়েলারি সামগ্রী বিক্রি করতে হয়েছে। ভাগ্যক্রমে নির্মাতা গাই রিচির নজরে পড়েন। ‘লক, স্টক অ্যান্ড টু স্মোকিং ব্যারেলস’ ছবির একটি চরিত্রর জন্য জেসন স্টেথামের মতোই একজনকে খুঁজছিলেন তিনি। সেই তাঁর সিনেমায় প্রথম অভিনয়। ১৯৯৮ সালে এটি মুক্তি পায়।

বেশ কিছু বিজ্ঞাপন ও সিনেমায় অভিনয় করে সেভাবে সাড়া পাননি। কিন্তু বিকল্প আয়ের পথ থাকায় অভিনয়টা তিনি চালিয়ে যান। পরে কিট ক্যাটের একটি বিজ্ঞাপন করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’, ‘দ্য এক্সপান্ডেবল’, ‘স্পাই’সহ বেশির ভাগ সিনেমাতেই কোনো স্ট্যান্টম্যান ব্যবহার করেননি জেসন স্টেথাম। একবার ৩ হাজার ফুট উঁচু হেলিকপ্টার থেকে লাফ দিতে গিয়ে তারে জড়িয়ে প্রায় মরতে বসেছিলেন। প্রায় প্রতিটি সিনেমাতেই তিনি কোনো না কোনো দুর্ঘটনায় পড়েছেন। একবার গাড়িসহ পানিতেও পড়ে গিয়েছিলেন।

স্টিভ ম্যাককুইন, পল নিউম্যান, ক্লিন্ট ইস্টউড, ব্রুস লি, সিলভেস্টার স্ট্যালোন—এই অভিনেতাদের কাছ থেকে তিনি প্রেরণা খুঁজে পান। কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, তাঁরাই আমার প্রেরণা, নিজের কাজ যাঁরা নিজেই করেন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ৫০০ মিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হয়েছেন। প্রতিবছর তাঁর আয় ৪০ মিলিয়ন ডলার। ২০১৭ সালে ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ ছবির জন্য কোটি ডলারের ওপরে পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। তাঁর অভিনীত এক ডজনের বেশি সিনেমার আয় বিলিয়ন ডলারের বেশি।

শুধু অলিম্পিক নয়, ডাইভিংয়ের কোনো প্রতিযোগিতাতেই কখনো কোনো মেডেল জিততে পারেননি। ১৯৮৮, ’৯২, ’৯৬—তিনবার অংশ নিয়েছেন অলিম্পিকে। সবগুলো প্রতিযোগিতার ট্রায়ালেই তিনি ৩য় স্থান অধিকার করেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কঠোর পরিশ্রম করেও আমি ব্যর্থ হচ্ছিলাম। এটা আমাকে আরও বেশি ফোকাস করতে সহায়তা করছিল।

পছন্দ হলেই বাড়ি কিনে ফেলেন এই অভিনেতা। ২০০৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় সমুদ্রের পাশে ১০ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারে একটি বাড়ি কেনেন। গত বছর বাড়িটি বিক্রি করেন ২০ মিলিয়ন ডলারে। বিভিন্ন সময় আরও তিনবার বাড়ি বিক্রি করে মোটা আয় করেছেন তিনি। গত বছর নতুন একটি বাড়ি কিনেছেন, মূল্য ৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার।

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তিনি লক্ষ্মী। তাঁর কারণ বেশির ভাগ সিনেমাই ব্যবসাসফল। বিবিসির এক জরিপে জানা যায়, ২০০২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তাঁর সিনেমাগুলোর টিকিট বিক্রি হয়েছে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন। যার অর্থমূল্য ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরো। অনেকেই মনে করেন জেসন স্টেথামের ঝুলিতে আছে নামীদামি পুরস্কার। আদতে তিনি বড় কোনো পুরস্কার পাননি। ২০০৬ সালে তিনি ক্রান্ক সিনেমার জন্য ওমেন ফিল্ম ক্রিটিকস সার্কেল পুরস্কার জয় করেছিলেন। তবে বড় কোনো পুরস্কার না পেলেও এই অভিনেতা জিতে নিয়েছেন কোটি ভক্তের হৃদয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here