৩১ মার্চ আসছে আসিফের জীবনী

৩১ মার্চ আসছে আসিফের জীবনী
৩১ মার্চ আসছে আসিফের জীবনী

বাংলা গানের যুবরাজ আসিফ আকবরের জীবন মানেই বিতর্ক, রোমাঞ্চকর উত্থান-পতনের গল্প। সেসব গল্প অনেক ফিকশনকেও হার মানায়। কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আসিফের উত্থান, রাজনীতির মঞ্চে আবির্ভাব কিংবা মামলা মাথায় নিয়ে হাজতবাস- এসবই যেন আসিফ আকবরের বর্ণিল জীবনের প্রতিবিম্ব।

শিল্পী আসিফ আকবরের সেই বর্ণিল জীবনের গল্প এক মলাটে প্রকাশ হতে যাচ্ছে আগামী ৩১ মার্চ। শিল্পীর জীবনী লিখছেন সাংবাদিক, লেখক সোহেল অটল। ২০২২ সালের ৩১ মার্চ এই তারকা শিল্পীর জীবনী মুক্তি পাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এই গায়ক নিজেই জানিয়েছেন।

এই দেশে বেঁচে থাকতে সম্মাননা দেয়া হয় না উল্লেখ করে আসিফ আকবর লিখেন, বাংলাদেশের বয়স আর আমার বয়স সমান। ইদানীং মরে কবরে গেলেও কারণে অকারণে মুক্তি মিলছে না কারোরই। সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্বজ্ঞানী দেশবাসীর বিচার বিশ্লেষণের সর্বগ্রাসী আক্রমনের ছোবলে ন্যূজ হয়ে গেছে সব সিস্টেম। যে কোন বিষয়েই বিশেষজ্ঞ ভরপুর এক বেকার জাতি আমরা। ন্যায় সংগত কথা বললেও ঠেলে নিয়ে যাবে নিজের পার্টিগত যুক্তির কাছে। যেখানে শুধুই জিতে যাওয়ার প্রবনতা বিরাজমান সেখানে শিক্ষাদীক্ষার কোন অস্তিত্ব থাকে না।

তিনি আরও লিখেন, মিডিয়ার অনর্গল মিথ্যার বিষ মাখানো ভাত খেয়ে ভর্তি হয়েছে জাতির পেট। প্রতিষ্ঠিত চোর বাটপার লুটেরাদের নীতি কথায় দলকানা দল দাসদের উৎসাহ দেখে মাঝে মধ্যে মনে হয় এই দেশে ঔপনিবেশিক গোলামীটা বৃটিশরা সলিডভাবে শিখিয়ে গেছে। পাছার ছাল উঠে যাবে তবুও দলকানার পাল চাটার দলের পক্ষেই থাকবে। দেশে তো আর কোন প্রতিবাদের অস্তিত্ব রাখেনি এই সরকার বাহাদুর। নিজের বেলায় হালিতে পাঁচটা আর পাবলিকের বেলায় হালিতে ডিম থাকে তিনটা, এর মধ্যে পঁচা দুইটা।

কিছু কার্টুন উজির নাজির আছে তারা বিনোদন দিয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত। নাম নিলেই ডিজিটাল আইনের খড়গ স্ট্যান্ডবাই। বিভক্ত জাতির এক অংশ তীব্র ব্যথা সহ্য করে বাঁশ নিচ্ছে পিছন দিক দিয়ে। আর ক্ষমতাসীন দলের খেটে খাওয়া তৃণমূল সমর্থকরা সামনাসামনি বাঁশ নিচ্ছে হাসি মুখে। মেরুদন্ডের কশেরুকা শুকিয়ে যাওয়া জাতি জবাবদিহিতা চাওয়ার বদলে ব্যস্ত আছে ক্রিকেট নিয়ে। চোখে লাগিয়ে দিয়েছে টিনের চশমা আর মুখে লেপ্টে দিয়েছে হালের বলদের খাঁচি। হাইব্রিডের দেশে শুধু চাষ করে যাও বৎস- বাঁচলে খাওয়া-দাওয়া পরে হবে।

অনেক কিছু ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি নিজের বায়োগ্রাফিটা তৈরি করে ফেলি উল্লেখ করে এই গায়ক লিখেন, যে দেশে গুণী মানুষের মূল্যায়নের লেশমাত্র নেই, সেখানে আমি ছোটখাটো এক গায়ক নিজের ঢোলটা নিজেই বাজাই। এতে অনন্ত ফেঁটে যাবার সম্ভাবনা কম থাকবে। কিছু লোকের তো ইন্টারেস্ট আছে আমার সম্বন্ধে জানার! বেশি বুড়ো হয়ে মরলে ভাল কন্টেন্ট হওয়া যাবে না। এদেশের মানুষের অতো ধৈর্য্য নেই, শুধু লেটেস্ট মডেলের আলাপে মত্ত থাকি আমরা। বইটা লিখছেন সাংবাদিক এবং সুলেখক সোহেল অটল।

চার মাস ধরে প্রচুর পরিশ্রম করছে ছেলেটা। আমার গোপন প্রকাশ্যে সব ইতিহাস একাত্র করছে। পরিবার, শিক্ষা, ক্রিকেট, রাজনীতি, আন্ডারওয়ার্ল্ড ড্রাগ প্রেম ও গানের পাশাপাশি বেড়ে উঠে মৃত্যুর পথে এগুনো সব বাস্তব ফ্যান্টাসি থাকবে এখানে। এই বায়োগ্রাফি প্রকাশ হবার পরে অনেক মামলা খাবো এটাও জানি। অনেকের দৃষ্টিতে খারাপ হয়ে যাবো, কারো কারো মায়াও পেতে পারি। সবাই নিজেরটা লুকাচ্ছে আর আমি সব প্রকাশ করে দিতে যাচ্ছি- এটাই এই জীবনে এক বিশাল তৃপ্তি আমার। কারো ভাল লাগলে সম্মান করবো, মন্দ লাগার ধার ধারি না, নিজের কাছে ক্লিয়ার থাকতে চাই। সব ঠিক থাকলে ৩১ মার্চে আসবে আমার বায়োগ্রাফি এবং অডিও বুক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here