৩৬ এ পা রাখলেন রণবীর সিং (ভিডিও)

0
49
৩৬ এ পা রাখলেন রণবীর সিং

ভারতের বলিউড ইন্ডাস্ট্রির একজন খ্যাতনামা অভিনেতা।খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার সেরা অভিনয়ের মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার অর্জন করেছেন। চলচ্চিত্র শিল্পে সেরা অভিনেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তার অভিনয় মানুষের হৃদয়ে ছোঁয়া জাগিয়েছে। তাহলে চলুন না জেনে নিই রণবীর সিংয়ের জীবনে কিছু কথা। তার শৈশব থেকে বড়ো হওয়ার কাহিনী।

রণবীর সিং ১৯৮৫ সালে ৬ জুলাই মুম্বাই শহরে সিন্ধি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম জগজিৎ সিং ভবনানী এবং মা আঞ্জু ভবনানী। তার দিদি রীতিকা ভাবনানী। রণবীর সিং হলেন সোনাম কাপুর এবং প্রযোজক রিয়া কাপুরের মামাতো বোন।

রণবীর শৈশব বয়স থেকেই একজন অভিনেতা হতে চেয়েছিলেন। তাই স্কুলে নাটকে অংশগ্রহণ করতেন। শৈশব থেকেই রণবীর সিং বলিউডের মুভি দেখতে পছন্দ করতেন। এবং বলিউডের দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়। কিন্তু তিনি বুঝতে পারেন বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করা খুব সহজ কাজ নয়। তার মনে ধারণা জেগেছিল শুধুমাত্র বলিউড ব্যাকগ্রাউন্ড যাদের আছে, তাদের পরিবারের সদস্যরাই চলচ্চিত্র জগতের সুযোগ পায়। এর জন্য অভিনয় করার স্বপ্ন থেকে সরে গিয়েছিলেন।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পড়া চলাকালীন তার অভিনয়ের উপর আত্মবিশ্বাস পুনরায় ফিরে আসে। ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় রণবীর সিং অভিনয় ক্লাস করার সিধান্ত গ্রহণ করেন। ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর অফ আর্টস ডিগ্রি অর্জন করে তিনি ২০০৭ সালে মুম্বাইয়ে ফিরে আসেন। মুম্বাই এসে প্রথমে তিনি কিছু বিজ্ঞাপনে কাজ করতেন।এরপর তিনি সিদ্ধান্ত নেন সে সকল ধরনের মুভির জন্য অডিশন শুরু করবে।

পড়াশুনো শেষ করে মুম্বাই ফিরে এসে তিনি অডিশন শুরু করেন এবং পরিচালকদের কাছে পোর্টফলিও প্রদান করেন। তার নিজের উপর আত্মবিশ্বাস ছিলেন যে তিনি একদিন অভিনয় জগতে প্রধান ভূমিকা পালন করবেন।

তিনি প্রথমে একটি মিউজিক ভিডিও এবং সাবান বিজ্ঞাপনের অফার পেয়েছিলেন। কিন্তু রণবীর সিং অফারটি প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ তার জীবনের প্রধান লক্ষ্যেই ছিল ফিল্মে অভিনয়। তাই তিনি সিধান্ত নেনে যে পরিচালকদের কাছে পোর্টফলিও দেখাতে নিজেই যাবেন। কিন্তু কোথাও কোন সুযোগ তিনি পাচ্ছিলেন না তাই হতাশায় ভুগতে থাকেন রণবীর ।

২০১০ সাল ছিল তার জীবনের স্বপ্ন সফল হওয়ার সময়। কারণ এই সালে জানুয়ারি মাসে রণবীর সিংকে যশ রাজ ফিল্ম থেকে অডিশনের জন্য ডাকা হয়। অডিশনে দুটি দৃশ্যে দেখে আদিত্য চোপড়া (যশ রাজ ফিল্মের ভাইস প্রেসিডেন্ট) তার অভিনয় দক্ষতা দেখে মুগ্ধ হয়ে যায় এবং অনুষ্কা শর্মার বিপরীতে রোমান্টিক কমেডি “ব্যান্ড বাজা বারাত” সিনেমাটি অফার করেন।

রণবীর সিংয়ের প্রথম সিনেমা “ব্যান্ড বাজা বারাত” মুক্তির পর ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে ভালো সফল হয় এবং তিনি অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হন। বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে জানা যায় মুভিটি মুক্তির চার- পাঁচ সপ্তাহ পর ২৪ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এই ছবিটি অভিনয় করে রণবীর শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেতা হিসাবে ফিল্মফেয়ারে পুরস্কার অর্জন করে।

“ব্যান্ড বাজা বারাত” অসাধারণ সাফল্যের পর তার কাছে যশ রাজের প্রোডাকশন আরও একটি মুভির অফার আসে। মানীশ শর্মার পরিচালিত “লেডিস ভার্সেস রিকি বাহল” সিনেমায় আরও একবার অনুষ্কা শর্মা এবং রণবীর সিংকে একসাথে জুটি বাঁধতে দেখা যায়। এই মুভিটি মোটামুটি ভাবে সাফল্যে অর্জন করে।

২০১৩ সালে রোমান্টিক সিনেমা “লুটেরা” সোনাক্ষী সিনহা বিপরীতে দেখা যায়। ছবিটি বক্স অফিসে তেমন সাফল্যের মুখ না দেখলেও রণবীর সিংয়ের অভিনয় অত্যন্ত প্রশংসিত ছিল। ওই সালেই তার মুক্তি প্রাপ্ত সুপারহিট সিনেমা “সঞ্জয় লীলা ভানসালীর “গোলিয়োঁ কী রাসলীলা রাম-লীলা”। এই মুভিতে রণবীরের বিপরীতে দেখা গেছে বলিউডের নাম্বার ১ নায়িকা দীপিকা পাডুকোনকে। এই ছবিটি বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার হিট হয়েছিল। রোমিও চরিত্রের উপর ভিত্তি করে গুজরাটের ছেলে রামের চরিত্রে তার অসাধারণ অভিনয় মানুষের মন ছুঁয়ে গেছে। এই সিনেমাটি মুক্তি পর তিনি প্রচুর ভক্তদের মন অর্জন করে নিয়েছিলেন। এই সিনেমাটির জন্য তাকে সেরা অভিনেতা হিসাবে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। এখান থেকে বলিউডের শ্রেষ্ঠ তারকা হিসাবে পরিচিত হয়েছিলেন তিনি।

অভিনেতা রণবীর সিংকে পরবর্তী সিনেমা “গুন্ডে” (২০১৪ সালে) প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এবং অর্জুন কাপুরের সঙ্গে পর্দা ভাগ করে নিতে দেখা গেছে।

এই সিনেমাটিতে রণবীরকে বাঙালি অপরাধীর চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। এই ছবিটি বক্স অফিসে অসাধারণ সাফল্যে পেয়েছিল। কিন্তু তার পরবর্তী সিনেমা “কিল দিল” বক্স অফিসে সাফল্যের মুখ দেখতে পায়নি। 

২০১৫ সালে জোয়া আখতারের ” দিল ধড়কনে দো” সিনেমাটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছিল। রণবীর সিং কাবিরের চরিত্রে অভিনয় করেছিল এবভং দর্শকের প্রশংসা অর্জন করেছিল।

২০১৫ সালে রণবীরের সিংয়ের বড়ো বাজাটের মুক্তি প্রাপ্ত সিনেমা ছিল সঞ্জয় লীলা ভানসালির ঐতিহাসিক ” বাজীরাও মস্তানী”। এই সিনেমায় তাকে প্রথম বাজিরাওয়ের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। আরও একবার দীপিকা পাডুকোনের সঙ্গে জুটিতে দেখা যায় তাকে। এই সিনেমাটি ভারতীয় শ্রেষ্ঠ সিনেমারগুলির মধ্যে একটি। এই মুভিতে রণবীর এবং দীপিকার অভিনয় ছিল দুর্দান্ত। এই অভিনয়ের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার সহ বিভিন্ন পুরস্কার জিতেছে এবং জয় করছে হাজার হাজার মানুষের মন।

২০১৬ সালে রণবীর সিংকে আরও একবার যশ রাজ প্রোডাকশন মুভি “বেফিকরে”বানী কাপুরের বিপরীতে তাকে দেখা যায়। রণবীর এই সিনেমায় একজন দিল্লির ছেলের অভিনয় করেছেন, যে প্যারিসে কাজের সন্ধানে গিয়ে শায়রা সঙ্গে দেখা হবে। মুভিটি ট্রেলারের সময় ভালো সাফল্যে অর্জন করলেও মুক্তি পাওয়ার পর বক্স অফিসে ভালো ফল পায় না। ২০১৮ সালে রণবীর সিংয়ের সবচেয়ে বিতর্কিত ছবি ছিল পদ্মাবতী। আরও একবার সঞ্জয় লীলা ভানসালি এবং দীপিকা পাডুকোনের সঙ্গে কাজ করলেন। রণবীর একজন নিষ্ঠুর এবং নির্মম রাজা আলাউদ্দিন খিলজির ভুমিকায় অভিনয় করছেন। হাজার বিতর্ক থাকা সর্তেও পদ্মাবতী বক্স অফিসে ভারতের সর্বোচ্চ অর্জনকারীর তালিকায় পরিণত হয়েছে। পদ্মাবতী চলচ্চিত্রের জন্য, সেরা অভিনেতা হিসাবে রণভীর দাদা সাহেব ফালকে শ্রেষ্ঠত্ব পুরষ্কার পেয়েছেন।

২০১৮ সালে ডিসেম্বর মাসে রণবীর সিংয়ের মুক্তি প্রাপ্ত ছবি “সিম্বা”। প্রথম দিন থেকেই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে সিনেমাটি। তার বিপরীতে দেখা যায় সারা আলি খানকে। তার অভিনয় নিয়ে ভক্তদের মধ্যে মাতামাতির শেষ নেই। বক্স অফিসে এখনো পর্যন্ত ৩৫০ কোটি টাকার বেশি অর্জন করে ফেলেছে। ২০১৯ সালে আরেকটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। ছবির নাম “গলি বয়”, তাকে এই সিনেমায় আলিয়া আলিয়া ভাটের সঙ্গে জুটিতে দেখা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here