৭৬-এ পা রাখলেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় (ভিডিও)

৭৬-এ পা রাখলেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়- এ দেশের বহুমাত্রিক একজন কিংবদন্তী শিল্পী। আজ ৭৫ পেরিয়ে ৭৬-এ পা রাখছেন তিনি।

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ঈম্বরীপুর গ্রামে ২৮ জুলাই ১৯৪৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।।ছোটবেলা থেকেই তিনি বেড়ে উঠেছেন পারিবারিক পরিবেশে। তার পরিবারের সবাই সঙ্গীত নিয়ে সব সময় মেতে থাকতেন।  তাদের বাড়িতে ছিল তাদের নিজস্ব থিয়েটারের দল। সেই থিয়েটার দল বছরে কয়েকটি যাত্রা এবং নাটক মঞ্চস্থ করতো এবং তাতে তাদের পরিবারের সবাই অভিনয় করতেন। অনেক ছোটবেলায় এরকমই এক ‘পালা’য় বিবেকের সহচর বালক বা ‘এক-আনি’র ভূমিকায় জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম মঞ্চে ওঠা। এর পর একটু বড় হয়ে আবৃত্তি আর অভিনয়ের দিকে তার আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। পাশাপাশি শিখেছেন গান আর তবলাবাদন। জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক সম্পন্ন করেন। দেশের বাইরে সর্বপ্রথম কলকাতায় তিনিই একক আবৃত্তি অনুষ্ঠান করেন। ১৯৬৯ সালে লেনিন জন্মশতবার্ষিকীতে রঞ্জি ইনডোর স্টেডিয়ামে তিনি নজরুল-তনয় কাজী সব্যসাচীর সঙ্গে দ্বৈত ও একক আবৃত্তি করেন।কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠকালীন শুরু হয় একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। ফলে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে পাঠ স্থগিত রেখে দুইভাই একসাথে সংযুক্ত হন মুক্তিযুদ্ধে।

 জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম দর্শনীর বিনিময়ে একক আবৃত্তি অনুষ্ঠান করেন। বাংলাদেশে বৃন্দ আবৃত্তির (কয়্যার) সূচনা করেন তিনি। এরই পাশাপাশি ১৯৭০-এর দশক থেকেই টিভি নাটকে অভিনয় করছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। গুরু আলমগীর কবিরের সান্নিধ্যে এসে চলচ্চিত্রের প্রেমে পড়েন, অভিনয়ের প্রতি নিমগ্ন সাধনায় ব্রতী হন। আশির দশকের মাঝামাঝি মোরশেদুল ইসলামের স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘সূচনা’-তে একটি চরিত্রে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে সিনেমায় তার আত্মপ্রকাশ। এরপর তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’, ‘রানওয়ে’, হুমায়ূন আহমেদের ‘ঘেঁটুপুত্র কমলা’, ‘নয় নম্বর বিপদসংকেত’সহ বেশ কয়েকটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং অসংখ্য টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। তিনি অনেক তথ্যচিত্রে কণ্ঠদান করেছেন।

বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী এই মানুষটি বেশ কিছুদিন ধরে লেখালেখিও করছেন।ইতোমধ্যে তার আপনি, তুমি, তুই, আমি এবং কবি ও তুমি- শিরোনামে ৫টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে এবং গ্রন্থগুলো পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে । পূর্বাহ্ণ, মধ্যাহ্ন, অপরাহ্ন ও মহাকাব্যিক কল্পকথা- শিরোনামে ৪টি বই প্রকাশের অপেক্ষায়। এছাড়া বাংলাদেশ, ভারত, ফ্রান্স, ব্রিটেন, স্কটল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর অনেক দেশে দর্শনীর বিনিময়ে ১৪টি একক আবৃত্তির অনুষ্ঠান করেছেন। আবৃত্তিকার হিসেবে তিনি শিল্পকলা পদক, গোলাম মুস্তফা পদক, নরেন বিশ্বাস পদকসহ অনেক সম্মাননা অর্জন করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here